![]() |
| ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে ৩৮ ফুটওভার ব্রিজের ২৭টির কাজই শুরু হয়নি চার বছরে |
মো. নাজমুল হোসেন ইমন । স্টাফ রিপোর্টার:
সোমবার বিকেল তিনটা। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে দ্রুত পায়ে নগরীর জিইসি মোড় পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন এক শিক্ষার্থী। মাঝপথে এসে দেখেন—দুই পাশ থেকেই দ্রুতগতির গাড়ি ছুটে আসছে। ঝুঁকি নিয়ে এক দৌড়ে সড়ক পার হয়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচেন তিনি।
কথা হলে ওই শিক্ষার্থী জানান, তার নাম সাজিদুল হাসান (১৭)। তিনি ওমরগণি এমইএস কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন জিইসি মোড় পার হয়ে ও আর নিজাম রোড আবাসিক এলাকায় কোচিংয়ে যাতায়াত করতে হয় তাকে। সাজিদুল বলেন, “ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় প্রতিদিনই জীবন হাতে নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়।”
প্রকল্প আছে, কাজ নেই:
পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নগরীর ৩১টি ব্যস্ততম মোড় ও এলাকায় ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পটি ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, যার মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে বরাদ্দ রাখা হয় ৫৮ কোটি টাকা।
তবে প্রকল্প অনুমোদনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ২৭টি ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। বাকি ১১টির মধ্যে মাত্র তিনটির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে এবং আটটির কাজ চলমান রয়েছে।
অগ্রগতি মাত্র ১২ শতাংশ:
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী কয়েকটি ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেও গত দুই বছরে সামগ্রিক অগ্রগতি মাত্র ১২ শতাংশ। প্রকল্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
কোথায় কোথায় ফুটওভার ব্রিজ:
ডিপিপি অনুযায়ী লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সড়কে ১১টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। টাইগারপাস, জিইসি, ষোলোশহর ২ নম্বর গেট, অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, অলংকার ও সিটি গেট মোড়ে দুটি করে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া লালখানবাজার, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, বাদামতলী, বারিক বিল্ডিং, নিমতলা, সল্টগোলা ক্রসিং, সিমেন্ট ক্রসিং, কেইপিজেড, কাঠগড়, মুরাদপুর, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, টেকনিক্যাল, একে খান, সাগরিকা, নয়াবাজার, রুবি গেট, কুলগাঁও স্কুল, মনসুরাবাদ, এক্সেস রোড, মহিলা কলেজ, সরাইপাড়া স্কুল, আকবরশাহ ও সানোয়ারা স্কুল মোড়ে একটি করে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
চালক-পথচারী উভয়েই বিপাকে:
ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় শুধু পথচারীরাই নন, যানবাহনের চালক ও সহকারীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। চালকরা জানান, ফুটওভার ব্রিজ থাকলে মোড়গুলোতে চাপ কমতো এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যেত।
কাজ থেমেছে নানা জটিলতায়:
জিইসি ও দুই নম্বর গেট মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিব উল্লাহ খান জানান, পূর্ববর্তী সময়ে স্থানীয় বাধা ও বিভিন্ন সংস্থার ইউটিলিটি লাইন সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এসব সমস্যা সমাধানে নতুন মেয়রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, “নকশা ও লোকেশন পরিবর্তন, বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার লাইনের কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সেগুলো সমাধান করেই কাজ এগোতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “যেসব ফুটওভার ব্রিজের কাজ শুরু হয়নি, সেগুলো দ্রুত শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিজাইন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।”

