![]() |
| রাবিপ্রবিতে গড়ে উঠছে ‘মিনি ট্যুরিজম হাব’: শিক্ষা–গবেষণা ও পর্যটনের নতুন সমন্বয় |
মহুয়া জান্নাত মনি । রাঙ্গামাটি:
রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষা, গবেষণা ও পর্যটনের সমন্বয়ে একটি নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই ‘মিনি ট্যুরিজম হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আতিয়ার রহমান।
বুধবার (তারিখ) সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবে জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
🌿 কী হবে ‘মিনি ট্যুরিজম হাব’:
উপাচার্য প্রফেসর ড. আতিয়ার রহমান বলেন, মিনি ট্যুরিজম হাব হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একটি পরিকল্পিত পর্যটন এলাকা, যা একদিকে রাঙ্গামাটির পর্যটনকে সমৃদ্ধ করবে, অন্যদিকে শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করবে।
তিনি জানান, কাপ্তাই হ্রদের পাশ ও পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত রাবিপ্রবি ক্যাম্পাস নিজেই একটি আকর্ষণীয় স্থান। এই সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
🎓 শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশের সমন্বয়:
উপাচার্য বলেন, রাবিপ্রবির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই হাব হবে হাতে-কলমে শিক্ষার কেন্দ্র। এখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পাঠ্যজ্ঞানকে প্রয়োগ করার সুযোগ পাবে।
এছাড়া এই হাবের মাধ্যমে রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও হস্তশিল্প তুলে ধরা হবে। এতে স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটার পাশাপাশি পর্যটকরা পাহাড়ি অঞ্চলের বৈচিত্র এক জায়গায় জানতে পারবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকেও চাঙা করবে।
পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তোলা হবে এই হাব, যা ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের জন্য একটি টেকসই মডেল হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
🏛️ জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স ২০২৬:
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে রাবিপ্রবি জাতীয় ট্যুরিজম কনফারেন্স–২০২৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ বছরের ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক আয়োজন। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের ইতিহাসে এই প্রথম রাঙ্গামাটিতে জাতীয় পর্যায়ের ট্যুরিজম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এই আয়োজনে মূল আয়োজক হিসেবে রাবিপ্রবির সঙ্গে যুক্ত থাকবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
📚 গবেষণা, প্লেনারি সেশন ও অতিথিরা:
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ৭০টিরও বেশি গবেষক তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
১৬ জানুয়ারি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান।
“পর্যটন: প্রকৃতির পরবর্তী অন্বেষণ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কনফারেন্সের প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. সাইফুল ইসলাম।
দ্বিতীয় দিন সকাল ৯টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে কী-নোট স্পিচ, ওরাল ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন এবং সমাপনী অনুষ্ঠান।
👥 উপস্থিতি:
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবির ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কনফারেন্সের সদস্য-সচিব জি এম সেলিম আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা।

