![]() |
| নতুন বছরে আমতলীতে তিন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বই না পেয়ে খালি হাতে ফিরল |
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বরগুনার আমতলী উপজেলায় ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছে। বই বিতরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত পাঠ্যবই সরবরাহের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় নতুন বছরে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট প্রায় ৯ হাজার ৬০০টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নবম শ্রেণি ছাড়া অন্য তিন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি দাখিল মাদ্রাসাগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। মাদ্রাসাগুলোতে কেবল নবম শ্রেণির বই পৌঁছালেও ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই এখনো আসেনি।
আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথিলা, সামিরা ও ত্বহা জানায়, “নতুন ক্লাসের বই পাওয়ার আশায় স্কুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু বই না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। নতুন বছরে বই না পাওয়ায় মনটা খুব খারাপ লাগছে।” তারা দ্রুত বই সরবরাহের দাবি জানায়।
আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম. এ. হান্নান বলেন, “আমরা শুধু নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করতে পেরেছি। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাইনি।”
আমতলী সরকারি আরমান-খোরশেদ (একে) মডেল পাইলট হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান জানান, “নবম শ্রেণির কিছু বই পাওয়া গেছে এবং তা বিতরণ করা হয়েছে। তবে অন্য তিন শ্রেণির বই এখনও আসেনি।”
এদিকে মহিষডাঙ্গা আলহাজ শামীম আহসান দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “দাখিল শাখায় কেবল নবম শ্রেণির বই হাতে পেয়েছি। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির কোনো বই এখনো আসেনি।”
আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জিয়াদ হাসান বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত শুধু নবম শ্রেণির বই পেয়েছি এবং সেগুলো বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনও সরবরাহ করা হয়নি। বই হাতে পেলেই দ্রুত বিতরণ করা হবে।”

