![]() |
| কার্বনমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে কুয়াকাটায় মানববন্ধন ও সৈকত পরিষ্কার অভিযান |
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
কার্বনমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মানববন্ধন ও সৈকত পরিষ্কার অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্টের পূর্ব পাশে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, অথচ কার্বন নিঃসরণে দেশের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন এনএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা, সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ খায়রুল বাশার বুলবুল, কেয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধি বায়েজিদ বোস্তামী এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন আমতলী এপি ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ‘উপরা’-এর যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ, কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামিম হোসেন রাজু, সাংবাদিক জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ উপকূল গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে এনএসএস-এর উদ্যোগে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পরিচালিত এ অভিযানে দুই শতাধিক সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক অংশগ্রহণ করেন।
এনএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহভাবে পড়ছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর ওপর। পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই পরিবেশবান্ধব আচরণ, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সবাইকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
কেয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধি বায়েজিদ বোস্তামী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকে জলবায়ু সহনশীল কৃষি, বিকল্প জীবিকা ও দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সম্মিলিত আন্দোলন আরও জোরদার হবে।

