![]() |
| পবিত্র শাবান মাসের ফজিলত ও করণীয়: রমজানের প্রস্তুতির শ্রেষ্ঠ সময় |
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী:
ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ মাস হলো পবিত্র শাবান। এই মাসেই রয়েছে বরকতময় রজনী লাইলাতুল বরাত, যা মাহে রমজানের আগমনী বার্তা বহন করে। মূলত শাবান মাস হলো রমজানের জন্য আত্মিক ও আমলগত প্রস্তুতির সময়।
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি নফল রোজা, নফল নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াত করতেন। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) পূর্ণ মাস রোজা রাখেননি, তবে শাবান মাসে তিনি অধিক হারে নফল রোজা আদায় করতেন।” (সহিহ মুসলিম)
শাবান মাসের বিশেষত্ব সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, “রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এ মাসটি এমন একটি সময়, যে মাসে মানুষের আমল আল্লাহ তাআলার দরবারে উপস্থাপন করা হয়। আমি চাই, আমার আমল আল্লাহর কাছে পেশ হোক রোজা অবস্থায়।” (নাসাঈ)
এ মাসের মধ্যভাগে রয়েছে শবে বরাত—ক্ষমা ও রহমতের এক মহিমান্বিত রাত। হাদিসে এসেছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টিতে তাকান এবং মুমিনদের ক্ষমা করেন; তবে শিরককারী ও বিদ্বেষ পোষণকারীরা তওবা না করা পর্যন্ত ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে। (ইবনে হিব্বান)
শাবান মাসে নফল ইবাদতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ইস্তেগফারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ এই মাসের পরেই আসে কৃচ্ছ্রসাধনার মাস রমজান, যেখানে দীর্ঘ সিয়াম সাধনার জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।
আলেমদের মতে, শাবান মাসে কিছু নফল রোজা রাখলে রমজানের ফরজ রোজা আদায় সহজ হয়। তবে শাবান মাসের শেষভাগে অতিরিক্ত রোজা না রাখাই উত্তম। বরং নিয়মিত ও ভারসাম্যপূর্ণ আমল করার ওপর ইসলামে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে বিশেষভাবে দোয়া করতেন— “হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।” (মুসনাদে আহমাদ)
এই দোয়ার মাধ্যমে শাবান মাসের মর্যাদা ও গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
অতএব, পবিত্র শাবান মাসকে রমজানের প্রস্তুতির সোপান হিসেবে গ্রহণ করে বেশি বেশি নফল ইবাদত, তওবা-ইস্তেগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও উত্তম চরিত্র গঠনের মাধ্যমে নিজেদের আত্মশুদ্ধির দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত।
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শাবান মাসের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

