
দোয়ারাবাজারে মাটিখেকো চক্রের বেপরোয়া তাণ্ডব, হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষিজমি
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মাটিখেকো চক্র নির্বিচারে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। এতে ফসলি জমি, খাল-বিল, জলাশয় ও রাস্তার পাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দোহালিয়া, লক্ষ্মীপুর, পান্ডারগাঁও, নরসিংপুর, দোয়ারাবাজার সদর, বোগলাবাজার, বাংলাবাজার ও সুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে দিনে ও গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে। অনেক জায়গায় রাস্তার পাশ থেকে মাটি তুলে নেওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে কাটা মাটি ট্রাক ও ট্রলারে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। চক্রটির সঙ্গে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের নীরবতায় মাটিখেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অবৈধ মাটিকাটা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ এবং ভূমি ব্যবহার ও মাটি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব আইনে পরিবেশের ক্ষতি করে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, অবৈধ মাটিকাটা অব্যাহত থাকলে উপজেলার প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জলাধার ও কৃষিজমি ধ্বংস হলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস, বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরূপ রতন সিংহ বলেন, “ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি কাটার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। এসব বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে জরিমানাও করা হয়েছে।”
এলাকাবাসী অবিলম্বে মাটিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
