![]() |
| তালতলীর সমুদ্রসৈকতে চার দিন পর দাখিল পরীক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ দুই জেলে |
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দাখিল পরীক্ষার্থী মো. আসাদুলের (১৬) মরদেহ চার দিন পর উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। তবে একই সময়ে সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দুই জেলের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। এতে তিনটি পরিবারের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি গ্রামের সৌদি প্রবাসী মুছা হাওলাদারের একমাত্র ছেলে মো. আসাদুল এ বছর মানিকঝুড়ি মোহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। আগামী ২০ জুলাই তার ফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
গত সোমবার তালতলী উপজেলায় ভগ্নিপতির বাড়িতে বেড়াতে যায় আসাদুল। পরদিন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বন্ধু জাকারিয়া, আতাউল্লাহ, শাওন ও সাগরকে নিয়ে শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যায়। পরে তারা সাগরে গোসল করতে নামলে ঢেউয়ের তোড়ে পাঁচজনই তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করলেও আসাদুল নিখোঁজ হয়।
শুক্রবার দুপুরে ঘটনার চার দিন পর শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতের ডিসি পয়েন্টসংলগ্ন চরে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা নৌ-পুলিশকে খবর দেন। পরে তালতলীর নিদ্রা-সকিনা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তালতলী নিদ্রা-সকিনা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাগর ভদ্র বলেন, “নিখোঁজ পর্যটক আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
এদিকে একই দিন বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তালতলী উপজেলার মধ্য আমখোলা গ্রামের তপন জমাদ্দার ও ফুল মিয়ার দুটি ট্রলার ১৮ জন জেলেকে নিয়ে ইলিশ শিকারে সাগরে যায়। বিকেলে উত্তাল সাগরে ট্রলার দুটি ডুবে গেলে জেলেরা পানিতে ভেসে যান।
পরদিন বুধবার একটি মাছ ধরার ট্রলার ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। তবে কালাম পাইকার ও শহীদুল খান নামের দুই জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
তালতলী নিদ্রা-সকিনা কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্টের কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, “নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে গত চার দিন ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু এখনো তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে একমাত্র ছেলে আসাদুলের মৃত্যুর খবরে তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। অন্যদিকে নিখোঁজ দুই জেলের পরিবারের সদস্যরাও এখনো প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

