খাল পুনঃখননে ৭৩ লাখ টাকা সাশ্রয়, সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন সালথার ইউএনও - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬

খাল পুনঃখননে ৭৩ লাখ টাকা সাশ্রয়, সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন সালথার ইউএনও

 

খাল পুনঃখননে ৭৩ লাখ টাকা সাশ্রয়, সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন সালথার ইউএনও
খাল পুনঃখননে ৭৩ লাখ টাকা সাশ্রয়, সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন সালথার ইউএনও


শরিফুল হাসান, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অপচয় কিংবা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ প্রায়ই আলোচনায় আসে। তবে সেই প্রচলিত চিত্র থেকে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।


উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এই পদক্ষেপ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের জন্য মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।


প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের মান ও অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে নিয়মিত তদারকি, ব্যয়ের প্রতিটি খাতের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করায় নির্ধারিত মান বজায় রেখেই তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে।


প্রায় তিন মাসব্যাপী পুনঃখননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধ করার পরও ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা অব্যয়িত থাকে। সরকারি বিধি অনুযায়ী সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।


প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য জানান, ইউএনও দবির উদ্দিন নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজের মান নিশ্চিত করায় সালথার এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প অন্য অনেক এলাকার তুলনায় বেশি মানসম্মত হয়েছে।


স্থানীয় কৃষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট থাকায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকট ছিল নিয়মিত সমস্যা। খাল পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া খাল সচল থাকায় মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধার হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।


এ বিষয়ে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই প্রতিটি টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। আমরা প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, “সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দ হওয়া প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব।”

Post Top Ad

Responsive Ads Here