
ঝলসে যাওয়া কিশোরীর চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নিলেন ইব্রাহিম
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গরম তরকারিতে পা ঝলসে যাওয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরী নীলা খানমের (১৫) চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ সমাজসেবক ইব্রাহিম হোসেন।
জানা গেছে, উপজেলার ধলাইরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের পিতৃহীন নীলা খানমের পা কয়েকদিন আগে গরম তরকারিতে গুরুতরভাবে ঝলসে যায়। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তার মা সাজেদা বেগম মেয়েকে হাসপাতালে নিতে পারেননি। ফলে বাড়িতেই চিকিৎসার চেষ্টা করতে গিয়ে ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং অবস্থার অবনতি ঘটে।
অসহায় এই কিশোরীর খবর পেয়ে ঢাকায় কর্মরত আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার মিঠাপুর কলেজপাড়ার বাসিন্দা তরুণ সমাজসেবক ইব্রাহিম হোসেন দ্রুত এলাকায় ছুটে আসেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি নিজ উদ্যোগে নীলাকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
শুধু হাসপাতালে ভর্তি করিয়েই থেমে থাকেননি ইব্রাহিম। নীলা সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার চিকিৎসার সব ব্যয় এবং হাসপাতালে অবস্থানকালীন খাবারের দায়িত্বও তিনি ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করেছেন।
শনিবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নীলা চিকিৎসাধীন অবস্থায় শয্যায় রয়েছেন। পাশে থাকা তার মা সাজেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আট বছর আগে আমার স্বামী মারা যান। প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। ইব্রাহিম হোসেন নিজে এসে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন এবং সব খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।”
সমাজসেবক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “অসহায় ও প্রতিবন্ধী এই কিশোরীর কষ্টের কথা শুনে চুপ করে থাকতে পারিনি। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্ব। নীলা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার চিকিৎসার দায়িত্ব আমি পালন করব।”
আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবিদ হোসেন জানান, প্রাথমিক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যথাসময়ে চিকিৎসা চলতে থাকলে কিশোরী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, আর্থিক অসচ্ছল একটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে সমাজসেবক ইব্রাহিম হোসেন মানবিকতার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
