
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের ছেলের মরদেহ দেখলেন পুলিশ সদস্য
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্র। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধারে গিয়ে নিহত শিশুটি যে নিজের ছেলে, তা জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক পুলিশ সদস্য। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার আব্দুল ওয়াহেদ জনতা স্কুল সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তুহিন (১০) স্থানীয় আব্দুল ওয়াহেদ জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা সামছুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত গাড়িচালক কনস্টেবল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হওয়ার খবর পেয়ে কনস্টেবল সামছুলসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সড়কে পড়ে থাকা শিশুটির মরদেহ তারই ছেলে তুহিনের। এ দৃশ্য দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তুহিনের মরদেহ ২৫০ শয্যার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সহকর্মীদের সামনে ছেলের জন্য বিলাপ করতে দেখা যায় সামছুলকে। অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, কনস্টেবল সামছুলের বাড়ি নেত্রকোণা জেলায়। তিনি পরিবার নিয়ে গাইটাল এলাকায় জনতা স্কুলসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিন ছেলের মধ্যে তুহিন ছিল মেঝো।
ওসি আরও জানান, শুক্রবার সকালে সাইকেলে করে স্কুলে যাওয়ার পথে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
