ইসলামের দাওয়াত প্রচারে কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও মানবকল্যাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্বীনের দাওয়াত। কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামী দাওয়াতের গুরুত্ব, দায়িত্ব এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।
তিনি বলেন, মানবজাতিকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করার জন্য মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের প্রধান দায়িত্ব ছিল মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করা, সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখা।
তিনি কোরআনের সূরা আল-আ'রাফের ১৫৭ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেন, নবী-রাসুলরা মানুষের কাছে কল্যাণের শিক্ষা পৌঁছে দিয়েছেন এবং অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর মতে, ইসলামী দাওয়াত কেবল আলেম-ওলামা বা ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্ব নয়; বরং প্রত্যেক মুসলমানের ওপর নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান পৌঁছে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি সূরা আলে ইমরানের ১০৪ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, আল্লাহ তাআলা এমন একটি দল গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। এ ধরনের মানুষই প্রকৃত সফলকাম।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে দাওয়াতি দায়িত্ব পালন করতে পারে। পরিবারের প্রধান তার স্ত্রী-সন্তানকে, শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার অধীনস্থদের এবং জনপ্রতিনিধিরা জনগণকে নৈতিকতা ও ইসলামের শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি মহানবী (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” (সহিহ বুখারি)
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, ইসলামের দাওয়াত কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ, ওয়াজ মাহফিল, সামাজিক সংগঠন, লেখালেখি কিংবা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি—সব মাধ্যমেই ইসলামের সৌন্দর্য ও মানবিক মূল্যবোধ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ইসলামী দাওয়াত প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শালীনতা ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের সঙ্গে নম্রতা ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করেন, “তোমরা মানুষের সঙ্গে নম্র ব্যবহার করো, কঠোরতা অবলম্বন করো না; সুসংবাদ দাও, মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করো না।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
লেখার শেষাংশে তিনি বলেন, দাওয়াতের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা উচিত। তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন সবাই ইসলামের সুমহান আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাওফিক লাভ করেন।
লেখক পরিচিতি: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি সিলেটের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় ইমাম, খতিব, অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
