লক্ষ্মীপুরে নুশরাত হত্যাকান্ডের মূলহোতা গ্রেপ্তার ; হত্যাকারী চাচা রুবেল !! - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, এপ্রিল ০১, ২০১৮

লক্ষ্মীপুরে নুশরাত হত্যাকান্ডের মূলহোতা গ্রেপ্তার ; হত্যাকারী চাচা রুবেল !!


তামজীদ হোসাইন,জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুরঃ-
মো: রুবেল হোসেন, পিতা মোঃ সিরাজ মিয়া, মা রিভা বেগম, এক ভাই দুই বোনদের মধ্যে ছোট। বাড়ী লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ২নম্বর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াগাঁও কালা মেস্ত্রী বাড়ী। সম্পর্কে হতভাগ্য নুশরাতের চাচা। পাশের ঘরটিই নুশরাতের। দলীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত দীর্ঘ সময় থেকে।
ছোট বেলা থেকে অত্যন্ত ডানপিঠে স্বভাবের মোঃ রুবেল হোসেন, রামগঞ্জ সরকারী কলেজে আই এ পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। ইয়াবা সেবন, নারী আশক্তি এবং অসামাজিক কর্মকা-ে লিপ্ত থাকার বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বরিশাল ও খুলনাসহ একাধীক বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। পাশের বাড়ীর একটি গরীব মেয়ের সাথে অপ্রীতিকর অবস্থায় ধরা পড়ে। খুলনাতে বছর দুয়েক পূর্বেও ধর্ষণের ঘটনায় তার মা বেগম ১লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হয়।
অজ্ঞাত আয়ের সূত্র ধরে ঢাকার সদরঘাঁট হকার্স মার্কেটে শাহ আলম বস্ত্রালয় নামের দুইটি পাইকারী তৈরি পোশাকের মালিক। অঢেল সম্পদ রয়েছে খুলনায়।
অল্পদিনেই ব্যবসা করে হয়েছেন কোটি টাকার মালিক। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হলেও চরিত্র বদলাতে পারেনি। এলাকায় আসলে বন্ধুদের নিয়ে মাদক ও ইয়াবা সেবনের আসর বসাতো প্রায়ই।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে চলে আসতো গ্রামের বাড়ীতে। সারারাত চলতো মাদক সেবনের আড্ডা ও অশ্লীল আয়োজন। বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও এলাকার সরকারীদলের নেতাকর্মীদের সাথে ছিলো সখ্যতা। স্থানীয় লোকজনও প্রভাব ও টাকার কাছে ছিলো একপ্রকার জিম্মি। কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পেতো না।
ঘটনার আগেরদিন বৃহস্পতিবার (২২মার্চ) রাতেও রুবেলের বাড়ীতে মাদকের আসর বসায় নোয়াগাঁও বাজারের ওয়াইফাই ব্যবসায়ী বোরহানসহ অন্যরা।
পরদিন ২৩ মার্চ শুক্রবার দুুপুর থেকে নুশরাত জাহান নিশু নিখোঁজ হয়। থানায় জিডি করা হলেও ২৬মার্চ পর্যন্ত পুলিশ নুশরাতের কোন হদিস পায়নি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন সকাল ১১টায় উপজেলার ১নম্বর কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া গ্রামের ঠাকুর বাড়ীর সামনের ব্রীজের নিছ থেকে শিশু নুশরাতের অর্ধগলিত ব্যাগ ও বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐদিন রাতেই ময়নাতদন্ত শেষে শিশু নুশরাতের লাশ দাফন করা হয় নিজ বাড়ীর পারিবারিক কবরস্থানে।
লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটালের আবাসিক ডাক্তার আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, শিশু নুশরাতকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরদিন নুশরাতের মা রেহানা বেগম রামগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ মামলা ও লাশের সাথে উদ্ধার হওয়া ব্যাগের সূত্র ধরে তদন্ত চালায়। তদন্তের এক পর্যায়ে বের হয়ে আসে মুল ঘটনা।
রুবেলের বন্ধু ওসমান, বাবা মোঃ সিরাজ মিয়া, মা রিভা বেগম, দ্ইু বোন রুপা ও নিপা, সিএনজি চালক রাকিব ও ঢাকার সদরঘাঁট থেকে গার্মেন্টস এর ম্যানেজার রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিন আগে আটক করে।
অবশেষে মূল হত্যাকারী রুবেলকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here