আবু মুসা বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি। নাটোরের বড়াইগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত অন্ততঃ ৪৫ জন আহত হয়েছে। নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বনপাড়া সাদিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে শনিবার বেলা তিনটার দিকে লেগুনা ও বাসের মুুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১৪ জন নিহত এবং অন্ততঃ ৩০ জন আহত হয়েছে।
আহতদের এলাকাবাসি ও নাটোর, গুরুদাসপুর ও লালপুর ফায়ার সার্ভিস বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার করে এলাকার ক্লিনিক সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহতরা হলো শিবপুর গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী রজুবা খাতুন (৩২), জামাইদিঘী গ্রামের নূরফেলের স্ত্রী লগেনা খাতুন (৬০), নারায়নপুর গ্রামের রুপচাঁদের স্ত্রী শেফালী খাতুন (৫০), লেগুনা চালক মালিপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম (২৮), চারঘাটের মিরকামারি গ্রামের আনোয়ারের কন্যা শাপলা খাতুন (২০) টাঙ্গাইলের গোপালপুর গ্রামের রোকন উদ্দিন (৫৪), আব্দুল সোবাহান (৭৫) বাকীদের রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
নাটোর ফায়ার স্টেশনের অফিসার মহিউদ্দিন ও প্রত্যক্ষদর্শী রহিম উদ্দিন জানান, পাবনা থেকে বগুড়াগামী যাত্রীবাহী বাস চেলেঞ্জার (ঢাকা মেট্রো চ- ৫৬৫৯) সাথে বনপাড়া থেকে রাজাপুরগামী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজ্জাকুল ইসলাম। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের প্রত্যেকের জন্য বিশ হাজার টাকা অনুদান ও আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামানকে প্রধান করে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে কমিটিকে।
অপর এক দুর্ঘটনায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজ্জাক মোড়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ট্রাক ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাক চালক বাবু (৩২) গুরুতর আহত হয়। তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করে। বাবু পুঠিয়ার মৃত বারেক উদ্দিনের ছেলে।এ দুর্ঘটনায় আরো পনের জন আহত হয়। বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি সামসুন নূর জানান, আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছে ও কমপক্ষে ৪৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের সবাইকে উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিক সহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

