চট্টগ্রাম প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম বলেছেন সরকার শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বহুমাত্রিক উদ্যোগ ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে সরকার শ্রম আইন সংস্কারসহ শিশু শ্রম নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এই উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তা বাস্তবায়নে শ্রমিক, মালিক পক্ষকে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তিনি শনিবার সকালে নগরীর একটি হোটেলে বিল্স এর দিনব্যাপী ৩য় বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। বিল্স এর ভাইস চেয়ারম্যান মো: মুজিবর রহমান ভূঞাঁ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিল্স এর যুগ্ম-মহাসচিব মো: জাফরুল হাসান, বিল্স উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেসবাহ্ উদ্দিন আহম্মদ, প্রকল্প সমন্বয়কারী কোহিনূর মাহমুদ, শ্রম ইস্যুতে গবেষক অধ্যাপক ড. ফসিউল আলম, ড. শাহিন চৌধুরী, ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে- তপন দত্ত, এ এম নাজিম উদ্দিন, আলহাজ্ব মু. শফর আলী, মসিউদ্দৌলা প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। মেয়র বলেন- মালিক-শ্রমিক-সরকারের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়। এ ক্ষেত্রে বিল্স কার্যক্রমে সকল দলের অংশগ্রহণের ফলে সংগঠনটির এক অন্যন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বলেন জনাব সফর আলী, নাজিম উদ্দীন ও তপন দত্ত এই তিন জনই তিনটি দলের নেতৃত্ব রয়েছেন। বলা যায় তিন জনই বিপরীত রাজনীতিতে জড়িত। তারপরও এই বিল্স এর কার্যক্রমে এক অভিন্ন, দাবী আদায়ের আপোষহীন নেতা তারা। এই গুনী রাজনীতিবিদদের নিকট থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে। তারা যদি এক জায়গায় শ্রমজীবী মানুষের রুজি রোজগারের উন্নয়নে কাজ করতে পারলে, জাতির উন্নয়নে কেন আমরা এক জায়গায় এসে কাজ করতে পারব না ? মেয়র বলেন আমরা বীরে জাতি। আমরা যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছি। বিশেষ বিশেষ দিনে আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম লক্ষনীয়, তবে এই দেশপ্রেম সারা বছর জাগ্রত নেই। এ প্রসঙ্গে মা-মাটি ও মানুষকে ভালবাসতে হবে। এইটা হচ্ছে দেশপ্রেম। দেশাত্বাবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মেয়র বলেন দেশের উন্নয়নে আমাদের সকলের দায়বদ্ধতা আছে। স্ব স্ব অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। সম্মেলনে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন- দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক বিশেষতঃ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পে শ্রমিক মৃত্যু ও দুর্ঘটনা আজ নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পরিদর্শন বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা, মালিক-কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, অব্যব¯হাপনা ও যথাযথ তদারকির অভাবে, প্রতিনিত ঝুকিঁপুর্ণ কমর্-পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হওয়ার ফলে অসহায় শ্রমিকরা একের পর এক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা রোধ, ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রম আইন কার্যকর করা আজ সময়ের দাবী। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগী ভূমিকা প্রয়োজন বলে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন।

