জাহিদ হাসান,সরিষাবাড়ী(জামালপুর)প্রতিনিধিঃ জামালপুুর সাতটি উপজেলার মধ্যে অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল উপজেলা হচ্ছে সরিষাবাড়ী।
এ উপজেলায় দেশের বৃহত্তর ইউরিয়া সার উৎপাদন কারখানা হচ্ছে যমুনা সারকারখানা যা সরিষাবাড়ীর প্রাণ কেন্দ্র তারাকান্দিতে অবস্থিত। পাট পাতা থেকে চা উৎপাদনের কারখানা হচ্ছে সরিষাবাড়ীতে। অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে তুলনা করা হলেও জেলা সদর থেকে যাতায়াতের এক ভোগান্তি পোহাতে হয় সরিষাবাড়ী তথা জামালপুর যাওয়া যাত্রীদের। জামালপুরের দিগপাইত-সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি মহাসড়কের ২৪ কিলোমিটারে অন্তত ৩৫টি ঝুঁকিপ‚র্ণ বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকের ফাঁদে পড়ে বিগত কয়েক বছরে অন্তত ১৫ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। তাই এগুলো মরণবাঁক হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে। অনেকের ধারনা জবিন সব সময় হাতের মাঝে নিয়ে বাচতে হয়। এ সড়কে যেমন যাত্রীদের সমস্যা হয় আশে পাশে বসবাসরত ঘড়- বাড়ীতে যারা থাকে তাদের বুকে একি পরিমান ধু ধু করে মরনের দিকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার সামনে থেকে তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা পর্যন্ত মাত্র ১৩ কিলোমিটার সড়কে ২০টি বাঁক রয়েছে। বাঁক বা মোড়ের কাছে গেলে মনে হয় সামনেই সড়কটির শেষ মাথা। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। বাঁকের কারণে সড়কের সামনের অংশ দৃষ্টিগোচর হয় না। ফলে বাঁক ঘোরার সময় অন্য দিক থেকে পণ্যবাহী ভারী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি, ইজি বাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন এলে দেখা যায় না। এতে মাঝে মধ্যে দুই দিক থেকে দ্রæতগামী যানবাহন মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পথচারী কিংবা বাইসাইকেল চালকরাও এসব বাঁকে বিভ্রান্ত হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। চলতি অর্থবছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর পুরো ২৪ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করেছে। ফলে এ সড়কে যাতায়াতে সুবিধা বেড়েছে। কিন্তু সড়কের বাঁকে বাঁকে রয়ে গেছে মৃত্যুঝুঁকি। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন মহল থেকে সড়কটির বাঁকাগুলো সোজা করার দাবি উঠেছে। সড়কটির বিভিন্ন বাঁকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বক্করের মোড় বাঁকে স¤প্রতি ইজি বাইক উল্টে আজিজুল (৫০) নামের একজন রাজমিস্ত্রি, গেন্দারপার মোড়ে পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে ইজি বাইকের যাত্রী ধান ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন (৬০), বগারপার মোড়ে যমুনা সার কারখানার কর্মচারী আনিছুর রহমান তালুকদার (৪২) এবং তারাকান্দি মোড়ে চলন্ত ট্রাকের ধাক্কায় পথচারী সাংবাদিক হাফিজুর রহমান (৩৮) মারা যান। স্থানীয় তারাকান্দি গ্রামের মামুন (৩৫) এ সড়কে ১০ বছর ধরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালান। মামুন বলেন, ‘সড়কে ঘন ঘন বাঁক। এত বাঁক আর কোনো জায়গায় নাই। এ সড়ক দিয়ে সার কারখানার ট্রাক চলে একটার পর একটা। ট্রাকচালকরা হর্ন দেয় না। বাঁকের কারণে হুট কইরা ট্রাক আইসা পড়ে। দেখা যায় না। এতে গাড়ি চালাইতে অনেক সমস্যা হয়। বাঁকগুলা যদি ঠিক কইরা দিত তাইলে আমাদের মেলা সুবিধা হইতো। মানুষও মরত না। ’বক্করের মোড়ের স্থানীয় কৃষক শামছু মিয়া (৬৫) বলেন, ‘হুন্ডা আর সিএনজিতে টক্কর লাইগা দিনের বেলাতেই একজন মারা গেছে এইখানে। কয়দিন আগে চারটা সাইকেলে সাইকেলে টক্কর লাগল। যদি এমুন টাইমে ট্রাক আইতো তাইলে কী দশাই না অইতো। রাস্তাটা সোজা করলেই দূর্ঘটনা ভয়ডা কম থাকতোনি। ’জামালপুর জেলা ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোতালেব হোসেন বলেন, ‘তারাকান্দি থেকে সরিষাবাড়ী পর্যন্ত মাত্র প্রায় ১৩ কিলোমিটারের মধ্যে এত বাঁক থাকায় দূর্ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। মাঝেমধ্যেই দূর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়। ট্রাকের কারণে দূর্ঘটনা ঘটলে আমাদের চালক ও হেলপারদেরও সমস্যা হয়। মামলা-মোকদ্দমাসহ অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। যমুনা সারকারখানা গেট ট্রাক পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন অন্তত দেড়শ ট্রাক চলাচল করে। তাই নিরাপত্তার জন্য রাস্তার বাঁকগুলো সোজা করার দাবি জানাচ্ছি। ’জামালপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘দিগপাইত-সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার সড়কটি স¤প্রতি ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে। সড়কটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপ‚র্ণ বাঁক চিহ্নিত করেছি। এসব বাঁকে দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। তা ছাড়া বাঁকের কারণে পণ্য কিংবা যাত্রী পরিবহনে অনেক সময় লাগে। এসব বিবেচনায় জমি অধিগ্রহণ করে সড়কের বাঁক সোজা করার জন্য প্রকল্প তৈরির চিন্তাভাবনা চলছে।

