ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের সালথায় আদালতের রায় পেলেও জমি দখল পাচ্ছেনা সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারটি। এ ব্যাপারে হিন্দু পরিবরের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন রমেন্দ্র নাথ দত্তের ছেলে সনজিদ দত্ত।
ফরিদপুরের সালথায় আদালতের রায় পেলেও জমি দখল পাচ্ছেনা সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারটি। এ ব্যাপারে হিন্দু পরিবরের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন রমেন্দ্র নাথ দত্তের ছেলে সনজিদ দত্ত।
অভিযোগে জানাগেছে, সালথা উপজেলার সলিয়া মৌজার এসএ ৩৬০, ৩২৯, ১৩৪, ১৬৫, ১৬৮, ১৬৯, ১৭০ দাগে মোট ৬১৪ শতাংশ জমির মধ্যে ১৮৭ শতাংশ জমির পৈত্রিক ও রের্কডিয় সুত্রে মালিক উপেন্দ্র নাথ দত্ত। তার মৃত্যুর পর জমির ওয়ারিশ সুত্রে মালিক হন তার পুত্রদ্বয় রমেন্দ্র নাথ দত্ত, ভুমেন্দ্র নাথ দত্ত, জ্ঞানেন্দ্র নাথ দত্ত ও সন্তোষ নাথ দত্ত।
এদের মধ্যে ভুমেন্দ্র নাথ দত্ত, জ্ঞানেন্দ্র নাথ দত্ত ও সন্তোষ নাথ দত্ত ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে দেশ ত্যাগ করলে দেশে থাকা অপর ভাই রমেন্দ্র নাথ দত্ত জমির মালিক হয়। যাহা বর্তমান বিএস রের্কডিয় তার নাম অন্তভূক্ত হয়। রমেন্দ্র নাথ দত্ত এলাকার নুরু উদ্দিন মশালচী, মমিন মোল্যা, মান্নান শিকদার, আলেম মুন্সী গংদের জমি বর্গাচাষ করতে দেয়। পরবর্তীতে সেই জমি আর ফেরৎ দেয়নি তারা।
পরে জানতে পারেন উক্ত জমি অর্পিত সম্পত্তি ‘ক’ গেজেটে রূপান্তরিত হয়েছে। এ বিষয়ে রমেন্দ্র নাথ দত্ত বাদী হয়ে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তন অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনাল-২এ মামলা দায়ের করে। মামলা নং ৯৭৭/২০১২। বিজ্ঞ আদালত ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর রমেন্দ্র নাথ দত্তের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
পরবর্তীতে সরকার পক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করেন। বিজ্ঞ আদালত আপীলের শুনানী শেষে ২০১৭ সালের ৪ মে রমেন্দ্র নাথ দত্তের পক্ষে রায় ঘোষনা করেন। রমেন দত্তের মৃত্যুর পর মামলা পরিচালনা করেন তার পুত্র সনজিদ দত্ত।
সনজিদ দত্ত বলেন, জমি বর্গাচাষ করার জন্য আমার বাবা উনাদের দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে জমি আর ফেরৎ দেয়নি তারা। জমি ফেরৎ চাইতে গেলে আমাদের হুমকি দেয়। এখন জোর করে তারা আমাদের জমি ভোগ দখল করে যাচ্ছে। কিছু বলতে গেলে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।
ওই এলাকার ৯০ বছর বয়সী ফাগু মাতুব্বর বলেন, উক্ত জমি রমেন্দ্র দত্তের। আমার জানামতে রমেন্দ্র দত্ত ওদের জমি বর্গা দিয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদ মোল্যা বলেন, রমেন্দ্র দত্তের অনেক জমি জমা ছিল। ওনাদের দান কৃত জমির উপর স্থানীয় সাড়–ক দিয়া বাজার, সাড়–ক দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারী হাসপাতাল, পশু হাসপাতাল, ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মিত হয়েছে। এখন নিজেরাই সম্পদ শুন্য হয়ে পড়েছে।
এলাকার আরেক বাসিন্দা দেলোয়ার মোল্যা বলেন, ঐ সময় আমিও ৭০ শতাংম জমি বর্গা নিয়ে ছিলাম, বছর তিনেক আগে উনাদের ফেরৎ দিয়েছি।
জমি ভোগ দখলকারী নুরু উদ্দিন মশালচী বলেন, এটা ভিপি সম্পত্তি। আমরা সরকারের নিকট থেকে ডিসিআর এনে ভোগ দখল করছি। সরকার উচ্ছেদ করলে চলে যাবো। কিন্তু সরকার এটা কেন করবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিলা কবির ত্রপা বলেন, শুনেছি রমেন্দ্র নাথ দত্তের পক্ষে আদালতের রায় হয়েছে। তারা রায়ের কপি নিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করলে জেলা প্রশাসক যে নির্দেশনা প্রদান করেন সে মোতাবেক আমি রায় বাস্তবায়ন করবো।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে বিএস পর্চায় জমির নাম থাকার পরও জমি কিভাবে ‘ক’ তফসিল(ভিপি) ভূক্ত হলো। ভুলভাবে ভিপি রের্কড হওয়ার কারনে জমির মালিকেরা যে হয়রানীর স্বীকার হচ্ছে তার দায়ভার কে নিবে।
স্থানীয়রা মনে করেন অতিদ্রুত রায়টি জেলা প্রশাসন বাস্তবায়ন করে জমির মূল মালিকদের কাছে জমি ফেরত দেবে এই প্রত্যাশা তাদের।

