![]() |
| আনোয়ারায় সড়ক থেকে উদ্ধার দুই শিশুর একজনের মৃত্যু |
মো. নাজমুল হোসেন ইমন, স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া শিশুটি দুই বছর বয়সী ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, নিহত শিশুটির মরদেহ নিতে তার দাদি চট্টগ্রামে এসেছেন। মানিকছড়ি উপজেলার ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, গত ২৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকা থেকে ৪ বছর বয়সী আয়েশা আক্তার ও ২ বছর বয়সী মোরশেদকে অসহায় অবস্থায় উদ্ধার করেন এক অটোরিকশাচালক। পরে তিনি শিশু দুটিকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ শিশুদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
চিকিৎসকদের তথ্যমতে, ছোট শিশুটির জন্মগত শারীরিক জটিলতা ছিল এবং বড় শিশুটি চর্মরোগে আক্রান্ত।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশু দুটির দায়িত্ব নেয়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেনের আদালত আনোয়ারা থানাকে এ ঘটনায় মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে ‘শিশু আইন–২০১৩’ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ৫ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ পেয়ে ৩১ ডিসেম্বর শিশুর বাবা মো. খোরশেদ আলম ও মা ঝিনুক আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
এর আগে, ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বাঁশখালী উপজেলা থেকে খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, তার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহামনি এলাকায়।
খোরশেদের ভাষ্যমতে, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তিনি বাঁশখালীর মিয়ারবাজার লস্করপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং এরপর দীর্ঘদিন তাদের কোনো খোঁজ পাননি।
তিনি আরও জানান, পেশায় তিনি একজন অটোরিকশাচালক এবং মাঝে মাঝে একটি ভাঙারির দোকানে কাজ করতেন। তার অভিযোগ, স্ত্রী ছোট প্রতিবন্ধী শিশুটিকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাতেন, যা জানতে পেরে তিনি বিভিন্ন জায়গায় জরিমানাও দিয়েছেন।

