ফরিদপুর সংবাদদাতা :
ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর ও বিরাজমান পরিবেশর জন্য ক্ষতিকর পয়োঃবর্জ্য ও বাসাবাড়ির আবর্জনা থেকে ফরিদপুরে তৈরি হচ্ছে কৃষির জন্য ব্যবহারোপযোগী দারুন জৈব সার। শহরের অদূরে অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আদমপুরে দেড় একর এজন্য গড়ে তোলা হয়েছে কম্পোজিট রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (সিআরটিসি)। পুরোপুরি চালু হলে প্রতিদিন এখানে প্রায় ৪ টন জৈব সার উৎপন্ন করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সিআরটিসিতে এব্যাপারে সাংবাদিকদের নিয়ে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, ফরিদপুর পৌরসভার মাধ্যমে বাস্তবায়ন এই সিআরটিসি প্লান্টের অন্যতম অংশীদার এলজিইডির ইউজিপ-৩ প্রকল্প। প্রকল্পের অর্থায়নে রয়েছে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। আর সহযোগীতায় রয়েছে সোসাইসি ফর আরবান প্রজেক্ট ও সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি নামে আরো দু’টি সংস্থা। যাদের মূলে রয়েছে বেসরকারী সংস্থা প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন।
প্রাকটিক্যাল অ্যাকশনের স্টেশন ইনচার্জ ধীমান হালদার জানান, এখানে পাশাপাশি দু’টি আনপ্লান্টেড বেডে ১৬টি করে ও একটি প্লান্টেড বেডে ১২টি চেম্বার রয়েছে। প্রতিদিন যেখানে ২৪ কিউসেক লিটার বর্জ্য অবমুক্ত করা সম্ভব। তিনি জানান, বর্তমানে এখানে মাঝখানের একটি বেড চালু হয়েছে। যেখানে সারা শহর থেকে সংগ্রহ করা ৬ থেকে ৭ কিউসেক আবর্জনা পয়বর্জ্য ফেলা হচ্ছে প্রতিদিন। পৌরসভার তিনটি মলবাহী গাড়ি (ভ্যাকুউম ট্যাগ) আধুনিক পদ্ধতিতে বাসাবাড়ি ও ভবনের সেফটি ট্যাংকের পয়বর্জ্য ও বদরপুরে অবস্থিত বাসাবাড়ির বর্জ্য শোধনাগার থেকে সংগ্রহ করা হয়। এসব বর্জ্য থেকে ৯৫ ভাগ পানি পরিশোধন হয়ে বের হয়ে যায়। আর অবশিষ্ট ৫ ভাগ শক্ত মল থেকে ১৬ দিনের ব্যবধানে তৈরি হয় জৈব সার।
সোসাইটি ফর আরবান প্রজেক্টের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন জানান, এখানকার তৈরি জৈব সার তারা স্থানীয় পর্যায়ে খুচরাভাবে কিছু বিক্রি করে ভাল সাড়া পেয়েছেন। ফলদ ও সব্জি চাষ ও বাগানের জন্য এ সার জন্য দারুন উপযোগী। এখন এই জৈব সার বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য অনুমতি চেয়ে খামার বাড়ি কৃষি অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। অবহিতকরণ সভায় আলোচনায় আরো অংশ নেন সাংবাদিক প্রবীর কান্তি পান্না বালা, সিআরটিসির কর্মকর্তা আল-আমীন, জিয়াউর রহমান প্রমুখ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পটি খুবই ব্যয়বহুল। প্রতিদিন শুধু জনবল খাতেই ব্যায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। যদিও এটি ব্যবসা সফল কোন হবে না তবে পরিবেশ ও প্রতিবেশকে বিপন্ন রাখার স্বার্থে এই প্রকল্পটি খুবই জরুরী। এতে একদিকে আধুনিক মানসম্মত পদ্ধতিতে শহরের পয়বর্জ্য নিস্কাশন হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষির জন্য মিলছে জৈব সারও।

