সময় সংবাদ ডেস্ক//
বিশ্বকাপের পরপরই শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এরপর ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ২২৪ রানে। টেস্ট ক্রিকেটের নবীনতম দলের সাথে বাংলাদেশের এমন হারের পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। প্রশ্ন উঠেছিল, কেন এভাবে একটি নতুন দেশের কাছে হারতে হলো বাংলাদেশকে? অনেকেই দাবি তুলেছিলেন, পোস্ট মর্টেম করার জন্য।
সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিসিবি সভাপতি আফগানিস্তান টেস্ট নিয়ে বলেন, বিশ্বাস করুন, আমার মনে হয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল দিয়ে খেলালেও আফগানিস্তানের সঙ্গে টেস্ট জিততে পারতাম। আফগানিস্তানের সঙ্গে আমরা হারব, তাও বাংলাদেশে! বড় বড় দেশও আমাদের এখানে এসে পারে না।
পাপনের দাবি, আফগানদের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে সাকিব আল হাসানই উইকেট বাছাই করেছেন। তাদের তৈরি করা উকেটে খেলেননি সাকিব।
তিনি বলেন, আমাদের যা যা পরিকল্পনা ছিল, সব উল্টে দিল কে? কেন? এটার জবাব খুঁজতে গিয়ে আমি যেন বিরাট অন্যায় করে ফেলেছি। আমি জানতে চেয়েছি, যে উইকেট আমরা বানালাম, সেই উইকেটে খেলা হয়নি কেন? সাকিব বলেছে এটা বাজে উইকেট। কিন্তু অন্যরা বলেছে, সাকিব নিজেই নাকি বল করে উইকেট বাছাই করেছে। যাকেই জিজ্ঞেস করি, বলে সাকিব এই উইকেটে খেলতে চেয়েছে। এখন ও যদি সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে খেলা শেষে ও-ই কেন বলল, বাজে উইকেট!
মুশফিককে দিয়ে ওপেনিং করানো সম্পর্কেও বিসিবি কিছু জানতো না দাবি করেন পাপন। একই সঙ্গে ওই হার নিয়ে একটা তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান বিসিবি সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই তদন্ত কমিটি করেই নাকি খেলোয়াড়দের রোষানলে পড়েছেন।
বিসিবি সভাপতি বলেন, তখন আমি একটা কমিটি করে বললাম তদন্ত করতে। আরও আছে। মুশফিককে দিয়ে ওপেনিং করাল, আমরা তো কেউ কিচ্ছু জানি না! ও (সাকিব) নাকি এটাও বলেছে, পারলে মোসাদ্দেককে দিয়ে ওপেন করাত। সংবাদমাধ্যমে আবার বলছে, সব ওপর থেকে করা হয়। আমি সারা জীবন পেশাদার ছিলাম। আমি চেষ্টা করি একটা নিয়মের মধ্যে চলতে। কিন্তু তদন্ত করতে বলার পর এমন একটা হুলুস্থুল শুরু হলো! বোর্ডের সভাপতি হিসেবে আমার কি অধিকার নেই, আমি কি জানতে পারি না? ওরা বলছে, আমি কেন আমার লোকদের কথা শুনে একজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে বলেছি। আমার প্রশ্ন, সাকিব কেন তাহলে ওই বাজে পিচটা বেছে নিল টেস্টের জন্য?
পাপনের ধারণা, তদন্ত রিপোর্ট খুব তাড়াতাড়ি হাতে আসবে এবং সবাই জানতে পারবে। তিনি বলেন, রিপোর্ট শিগগির চলে আসবে। কিন্তু কমিটি করার পরই তো শুরু হলো সমস্যা। এসব কিছু এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যেগুলোর সঙ্গে ইচ্ছে করলেই যে কোনো কিছুর সম্পৃক্ততা খোঁজা যায়। আমি এখনো কোনো উপসংহারে যাইনি, তবে যাব। আমার ধারণা, খুব শিগগির সবাই জানতে পারবে। তবে আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। খোঁজখবর নিচ্ছি, জানতে চাই কেন এটা হলো।
জাতীয় দৈনিকের ওই সাক্ষাৎকারের শেষ অংশেও সাকিবের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, আপনারা সব জেনে যাবেন। এসব আটকে থাকবে না। দেশে কিছু মানুষ আছে তাদের উসকায়। বাইরে তো অবশ্যই আছে। এগুলো বিস্তারিত বলতে চাই না। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটা নিয়ম সে (সাকিব) ভাঙল, কেন? সে তো অধিনায়ক, আমরা সবাই তাকে ভালোবাসি, দেশবাসী ভালোবাসে। সাকিবকে অধিনায়ক তো আমরা খামোখা বানাইনি। সাকিবকে সবচেয়ে বেশি সম্মান দেওয়া হয় বিসিবি থেকে। আমি দিই, প্রধানমন্ত্রী দেন, প্রতিটি মানুষ দেয়।

