ফসলের মাঠে ‘প্রেমপত্র’ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, জানুয়ারি ০৩, ২০২০

ফসলের মাঠে ‘প্রেমপত্র’

সময় সংবাদ ডেস্ক//
জমিতে বিভিন্ন নকশা করে ফসলের চাষ করে মানুষের নজর কেড়েছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাচামাটিয়া নদী পাড়ের কৃষক আব্দুল কাদির।

সম্প্রতি তিনি তার জমিতে বিভিন্ন নকশা করে সরিষা চাষের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে বেশ পরিচিতি পান আব্দুল কাদির। নিজের এলাকার বাইরে আশেপাশের বাজারে গেলেও অনেকে তাকে প্রেমিক পুরুষ বলে সম্বোধন করছে। কেউ কেউ তার সাথে ছবিও তুলছে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ‘কাচামাটিয়া’ নদী পাড়ের পাড়াখলাবলা গ্রামে আব্দুল কাদিরের বাস। তিনি এ গ্রামেরই হাজী তারা মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র।

কৃষক আব্দুল কাদির নিজের ৩৫ শতক জমিতে কারুকার্য করে ফসল বুনে মাঠকে করে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন। জমিতে বপন করেন বারী-১৫ জাতের সরিষা বীজ। সেই বীজ গজানোর পর পুরো ক্ষেত হয়ে যায় ছবির মাঠ। যদিও বর্তমানে চারা বড় হয়ে যাওয়ায় আগের সেই সোন্দর্য নেই।

ফসল ফলাতে গিয়ে কেন এই শৈল্পিক কাণ্ড? জানতে চাইলে কৃষক কাদির বলেন, ‘কৃষি কাজকে কেউ কাজ বলে মনে করে না, কেউ সম্মানও করে না। আর এ কাজ করে তেমন কোন আনন্দও পাওয়া যায় না। কিছুটা আনন্দ পাওয়ার জন্য আমার ফসলি জমিতে খেয়ালীপনা থেকে জমির বুকে চিত্রাংকন করে সরিষা বুনি।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামে একটি ক্লাব আছে। আমি এই ক্লাবের উপদেষ্টা। আমার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ক্লাবের অন্য সদস্যরা এ কাজের ব্যাপারে সহযোগীতা করে। ক্লাবের কেউ একজন আমার ক্ষেতের ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়। তারপর থেকে আমার ক্ষেত নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি এমন হবে আমি ভাবিনি।’

ক্ষেতের মাঝখানে রয়েছে ভালোবাসার একটি বড় প্রতিকী চিহ্ন, দু’পাশে রয়েছে দুটি নৌকা, জাতীয় ফুল শাপলা, চার কোণে আরো চারটি ভালোবাসার চিহ্ন।

কেন এসব ছবি? কৃষক কাদির বলেন, ‘নৌকা হলো আমার প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা ও গণমানুষের প্রতীক। শাপলা হলো আমাদের জাতীয় ফুল। ফুল আমার ভালো লাগে। ভালোবাসার চিহ্ন হচ্ছে আমার জীবনের মধুর স্মৃতি। আমার স্ত্রী যাকে নিয়ে আমি সংসার করছি। তাকে বিয়ে করার আগে তার সাথে আমার প্রেম ছিল। তখনকার যুগে মুঠোফোন না থাকায় চিঠিতে আমাদের যোগাযোগ হতো। আমি যখন তাকে চিঠি দিতাম তখন চিঠির চার কোনায় চারটি লাভ চিহ্ন একে মাঝখানে একটি বড় লাভ একে আমার নাম লিখে দিতাম। তাই আমি এগুলো এঁকেছি।’

কাদিরের স্ত্রী মুর্শিদা আক্তার স্বামীর ভালোবাসার এমন বহি:প্রকাশে অনেকটা লজ্জাবতী লতার মত হয়ে গেছেন তিনি। লজ্জায় এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে চাননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসার জীবনে ২০ বছরে কোন কলহ হয়নি। আল্লাহর রহমতে আমি আমার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সুখে আছি।’

Post Top Ad

Responsive Ads Here