মেহেরপুরে ২৫টি গ্রামের ৫০০ শতাধিক বৃদ্ধের এক অনন্য ভালোবাসার দিন - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

মেহেরপুরে ২৫টি গ্রামের ৫০০ শতাধিক বৃদ্ধের এক অনন্য ভালোবাসার দিন



মেহের আমজাদ, মেহেরপুর //
“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি, কী মানুষ পেতে পারেনা” ভুপেন হাজারিকার এই বিখ্যাত গানটি অনেক ক্ষেত্রে করো কারো জীবনে বাস্তবে দেখা যায়। আসলে মানুষ বৃদ্ধ হলে মনে হয় তাদের আর কিছুই পাবার নেই। প্রায় খবরে ছাপা হয়, শোনা যায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া, বয়স্ক নিবাসে রেখে আসা, লাশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করা। মনে হয় বৃদ্ধ বাবা-মা তাদের একটু সহানুভূতি আদর ভালবাসা পাবার অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। আর ভালোবাসা দিবসে তাদের খোঁজ নেবে কে?  ১৪ই ফেব্রæয়ারী, বিশ^ ভালোবাসা দিবস। দিবসটি পালনে দেশে দেশে যখন প্রেমিক-প্রেমিকা, যুবক-যুবতিরা নিজেদের ভালবাসা নানান রঙে রাঙিয়ে উৎযাপনে ব্যাস্ত, ঠিক এই সময় মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামবাসি ওই এলাকার অন্তত  ২৫টি গ্রামের ৫ শতাধিক বৃদ্ধের জন্য এক অনন্য ভালোবাসার দিন উপহার দিলেন। ব্যবস্থা করলেন মুরুব্বিদের খাওয়া দাওয়া, খোশগল্প, কোলাকুলি ও পারস্পারিক আলাপচারিতার। মহা খুশি ওই এলাকার মুরুব্বিরা। 
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসা প্রকাশের ধরন বিচিত্র এবং এক একজনের কাছে এক এক রকম। তবে এই ভালবাসার গল্প একটু ভিন্নমাত্রার এবং অকৃত্রিম। এই অকৃত্রিম ভালবাসার নজির গড়লো মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামবাসি। ১৪ ফেব্রæয়ারী ২০২০ শুক্রবার দিনব্যাপি সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের ২৫ জন সমমনা মানুষ কোন সহযোগিতা ছাড়া নিজেদের উদ্যোগে এবং খরচে ওই এলাকার দু’টি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের ষাটোর্ধ ৫শতাধিক বৃদ্ধকে নিয়ে আয়োজন করলো মুরুব্বিদের মিলন মেলা। মেলায় বৃদ্ধদের পারস্পারিক ভাববিনিময়, কুলাকুলি,  পূরোনো স্মৃতিচারনায় ওই মিলন মেলা  পরিনত হয় আনন্দ মেলায়। দিনব্যাপী এই মিলন মেলায় দুইবেলা ভূরিভোজে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বাড়ি ফিরলো  গ্রামটির আয়োজকদের অকৃত্রিম ভালবাসা নিয়ে। মুরুব্বিদের দাবি এ এক অন্য রকম আয়োজন। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত হয়ে সমবয়সি মানুষের সান্যিধে নানা স্মৃতি চারণ তাদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে শৈশব, কৈশর, যৌবন পেরিয়ে পৌঢ়ত্বের নানা বাস্তবতার দিনগুলিতে। 
এলাকার চাঁদপুর গ্রামের অংশগ্রহণকারী মুরুব্বি কুতুবউদ্দীন বলেন, মিলন মেলায় অংশ গ্রহণ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। খাওয়া দাওয়া খুব ভাল হয়েছে। অনেক মুরুব্বিদের সাথে আলাপচারিতা, মতবিনিময় সহ কুলাকুলি করে আনন্দ পেলাম। যুবকরা গ্রামে গ্রামে এরকম আয়োজন করলে আমাদের গর্বে বুক ভরে যায়। মুরুব্বি মোশারফ হোসেন বলেন, এই আয়োজনে অংশ নিতে পারা এ এক অন্য রকম অনুভ’তি। এক সাথে এত সমবয়সি মানুষের দেখা হওয়া খুবই ভাগ্যের বেপার। তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞা ও ধন্যবাদ জানান। 
মিলন মেলার প্রধান উদ্যোক্তা খাইরুল ইসলাম বলেন,আমরা আমাদের নিজেদের বৃদ্ধা মা-বাবার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে তাদের সম বয়সিদেরও একত্রিত করা হয়। এতে গ্রামের মুরব্বিরা এলাকার ২৫ টি গ্রামের তাদের সম বয়সি মুরব্বিদের  সাথে আড্ডায় মেতে ওঠে। এটা এ বছর নিয়ে পর পর ৬বছর ধরে করা হচ্ছে। আমরা নিজেরাই গ্রামের উদ্যোগি মানুষ নিয়ে মুরুব্বিদের এ মিলন মেলার আয়োজন করি। একাজে বাইরের কারো সাথে কোন চাঁদা নেওয়া হয়না। অনুষ্ঠানে ২৫ থেকে ২৬ টি গ্রামের ষাটোর্ধ বৃদ্ধ মানুষকে দাওয়াত করা হয়। বৃদ্ধদের এক যায়গায় করে ভালবাসার দিনে তাদের জন্য একটা অনন্য ভালবাসার আয়োজন করতে পেরে আমাদের খুব ভাল লগে। এলাকার বৃদ্ধ মানুষরাও খুব খুশি হয়।







Post Top Ad

Responsive Ads Here