ফরিদপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে কো-কম্পোস্ট জৈব সার - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০

ফরিদপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে কো-কম্পোস্ট জৈব সার

ফরিদপুর প্রতিনিধি :: 

ফরিদপুরের চাষিদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নন ফুডে ব্যবহৃত পরিবেশ বান্ধব বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে তৈরী জৈব কো-কম্পোষ্ট সার। জৈব কম্পোষ্ট সার প্রথম পর্যায়ের নন ফুডে যেমন তুলা চাষ, ফুল ও পাট চাষে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন জেলার অনেক চাষি। জৈব সার ব্যবহারের কারনে কমছে রাসায়নিক সারের ব্যবহার। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে, দুষন মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকছে পরিবেশ। বাড়ছে উৎপাদন, কমছে উৎপাদন ব্যয়। দিন দিন বদলে যাচ্ছে ফরিদপুরের কৃষির চিত্র। 

আর কৃষি বিভাগ বলছে আমাদের মাটিতে যে জৈব সারের ঘাটতি রয়েছে, সেটি পুরনে সহায়ক হবে এই কো-কম্পোষ্ট সার। কৃষকেরা এটি ব্যবহার করে ভাল ফল পাচ্ছেন এখন।

ফরিদপুর পৌরসভার পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার পাশাপাশি কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রাকটিক্যাল এ্যাকশন, বাংলাদেশ। 

প্রাকটিক্যাল এ্যাকশন এর সহযোগিতায় স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিসি পৌরসভার চার হাজার পরিবার থেকে রান্নাঘরের পরিত্যাক্ত বর্জ্য ও পয়:বর্জ্য সংগ্রহ করে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে পরিবেশ বান্ধব জৈব কো-কম্পোষ্ট সার উৎপাদন করে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। এই কো-কম্পোষ্ট সার এখন বিশেষ করে তুলা চাষে, ফুল চাষসহ অন্যান্য নন ফুডে ব্যবহার করে চাষিরা হচ্ছেন লাভবান। কম খরচে পাচ্ছেন অধিক ফলন। অপর দিকে পৌরবাসী পাচ্ছে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ।

জানাযায়, পরিবেশ বান্ধব জৈব কো-কম্পোষ্ট সার ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির গুনগত মান বজায় রাখে, স্বাস্থ্যকর গাছপালা উৎপাদন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমানো, পানির গুনমান উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এর মাধ্যমে বায়োমন্ডল থেকে উদ্ভিদ যে কার্বন শোষন করে তা আবার মাটিতে ফিরিয়ে আনে। এছাড়াও কো-কম্পোষ্ট সার মাটিতে প্রয়োগে খরা এবং রোগ ও পোকা-মাকড় প্রতিরোধ করে, মাটির কর্মদক্ষতা বাড়ায় এবং বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইড ত্যাগ হ্রাস করে। ফলে পরিবেশ বান্ধব জৈব কো-কম্পোষ্ট সারের প্রতি চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাযায়, উৎপাদিত জৈব কম্পোষ্ট সারের উপাদন সমুহের মধ্যে আছে, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার, জিংক, কপার, ক্যাডমিনিয়া ও নিকেল।


কৃষকেরা জানান, আমরা বানিজ্যিক ভাবে তুলা ও বিভিন্ন প্রকার ফুলের চাষ করছি। আগে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম, এতে আমার খরচ বেশী পড়ত। এখন কো-কম্পোষ্ট সার ব্যবহার করছি। আমার খরচ অনেক কমে গেছে। আমি ফলনও অনেক ভাল পাইতেছি। 

আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রাকটিক্যাল এ্যাকশন, বাংলাদেশ এর মার্কেটিং প্রমশন ফ্যাসিলিটেটর বুলবুল হোসাইন বলেন, আমাদের উৎপাদিত জৈব কো-কম্পোষ্ট সার চাষিরা ভাল ভাবে গ্রহণ করেছে। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি আমরা। ফরিদপুরে গৃহস্থলীর ও শহরের পয়:বর্জ নিয়ে জৈব সারের একটি কর্মসূচী পৌরসভার আওতায় এটি চলছে। এবং প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। নন ফুড যে সমস্ত ফসল রয়েছে যেমন, তুলা ,ফুল, পাট, বিভিন্ন প্রজাতির কাঠের গাছ গুলোতে এই জৈব সারের ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং ভাল ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকেরা এটি ব্যবহার করে ভাল ফল পাচ্ছে। এটি রেজিষ্টেশন নিয়ে বানিজ্যিক ভাবে সারাদেশেই ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। এটি একদিকে যেমন পরিবেশ বান্ধব, অন্যদিকে আমাদের মাটিতে যে জৈব সারের ঘাটতি রয়েছে সেটি পুরনে সহায়ক হবে।


কৃষকদের দাবি কিচেন বর্জ্য ও পয়:বর্জ্য ব্যবহার করে যে কো-কম্পোষ্ট জৈব সার উৎপাদিত হচ্ছে এর আকার আরো ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তুলে সরকার সরাসরি তাদের মাঝে বিতরন করবে এমন আশা তাদের।

Post Top Ad

Responsive Ads Here