শহরের পূর্ব খাবাসপুরে শারমীন আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধুকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী সিয়াম মোল্যা (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
আটক সিয়ার মোল্যার বাড়ি সালথা উপজেলার
রায়েরচর গ্রামে। পিতার নাম রঙ্গু মোল্লা। একটি গ্যাসের দোকানে চাকরি করে
সে। শহরের পূর্ব খাবাসপুরের শান্তিবাগে মৃত মজিবুর রহমানের বাড়িতে স্ত্রীকে
নিয়ে ভাড়া থাকতো সে।
নিহত শারমীনের মা আলেয়া বেগম (৪২) জানান,
মাত্র তিন মাস আগে তার মেয়ের সাথে সিয়ামের বিয়ে হয়। সিয়াম ইতিপূর্বে আরো
দু’টি বিয়ে করেছিলো। তিনি জানান, পাঁচ বছর আগে শারমীনের প্রথম বিয়ের পর
ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ওই ঘরে চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। সিয়ামেরও একাধিক
বিয়ের খবর জানা যায়।
আলেয়া বেগম জানান, গত ১৭ এপ্রিল সিয়াম
তাকে মোবাইলে বলে যে, শারমীনের করোনা হয়েছে। একথা জেনে তিনি ফরিদপুরে আসেন।
তবে ঘর বন্ধ দেখে তিনি বাড়ি ফিরে যাওয়ার পথে সিয়াম তাকে আবারো মোবাইলে
জানায় যে, শারমীন আত্মহত্যা করেছে। ঘরে তার লাশ রয়েছে। একথা শুনে তিনি
বাড়িওয়ালার স্ত্রীকে বিষয়টি জানান।
সাংসারিক নানা বিষয়ে শারমীনকে স্বামী সিয়াম নানাভাবে নির্যাতন করতো এবং এর জের ধরেই তার মেয়েকে হত্যা করেছে বলে আলেয়া বেগমের অভিযোগ।
কোতয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বেলাল
হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় শারমীনের
লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৮, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক
দেবাশীষ কর্মকার জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীচর
এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা হতে সিয়ামকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত শারমীনের পিতা সালথার জাকির হোসেন
একজন কৃষক। ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে শারমীন বড়। মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত
পড়াশুনার পর অভাবের তাড়নায় পরিবারের সিদ্ধান্তে অল্প বয়সেই তার বিয়ে হয়।