হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
হবিগঞ্জ জেলা চুনারুঘাট উপজেলা ১নং গাজীপুর ইউনিয়নের বাসুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্টার ৯২ বছর হলেও হয়নি চোখে পরার মত কোন উন্নয়ন।
জানা যায়,স্কুল (সরকার) পক্ষ ও জমি দাতাদের মধ্য দীর্ঘ দিন যাবত বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে মামলা হওয়ার কারনেই এমন হয়েছে । ১৯৩১ সালে (তৎকালীন পাকিস্তান আমল)বর্ডার অধ্যসিত এলাকা গাজীপুর ইউনিয়নের বাসুল্লা গ্রামে এই স্কুলের যাত্রা শুরু। তখনকার সময়ে হাজী মোহাম্মদ হোসেন নিজের ৩৬ শতক জমি (প্রায়)স্কুল নির্মাণের জন্যে দান করেন। সেই জায়গাতেই বাসুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে বাঁশ কাটের ঘর তৈরি করে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম।প্রতিষ্টার গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস থাকলেও হয়নি প্রতিষ্টানের পরিবর্তনমুলক উন্নয়ন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,স্কুলটির প্রতিষ্টার ৪০ বছর(প্রায়)পর জমি দাদা পক্ষ ও স্কুল কতৃপক্ষ (সরকার) পক্ষদের মামলা জটিলতায় কারণে স্কুলের এই বেহাল অবস্থা।কাঁচা বাঁশ আর টিন নির্মিত ঘর,অগভীর নলকূপ,টিনে আবৃত টয়লেট বেহাল অবস্থায় এই স্কুলে কোন শিক্ষক থাকতে চান না।দুই শতাধিকের বেশি ছাত্রছাত্রীর পাঠদানে মাত্র ৩ জন শিক্ষক।আমাদের দুঃখের গল্পের শেষ নাই। ইতিমধ্যে মামলার রায় উচ্চ ও নিম্ন আদালত ৩ বার স্কুলের পক্ষে আসে। কিন্ত ৩ বার উচ্চ আদালতে আপিল করছে জমি দাতা যার ফলে মামলাটি নিষ্পত্তি হচ্ছিল না।এ যাবৎ আবারও স্কুলের পক্ষে রায় আসে,আশা করি শিঘ্রই পরিবর্তন হবে।
এ বিষয়ে জমিদাতা সদস্য মৌলানা মাসুদ জানান, আমরা বিদ্যালয় জমি দিয়েছি।অতচ স্কুল কতৃপক্ষে নিকট থেকে কোন মুল্যায়ন পাচ্ছি না।আমাদের দেয়া এ জমির পরির্বতে অন্যতায় জমি বিনিময় দলিল করে দিয়েছি। কিন্তু কিছু লোকের কারনে তাহা সমাধান করতে পারছি না।এমন কি কমিটিতেও রাখা হচ্ছে না,কোন প্রকার যোগ সাজেশ করেন না। অন্যদের কথায় বিদ্যালয়ের মালামাল নিয়ে লুটপাটের মিথ্যা মামলা দিয়ে ভুক্তভোগী করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি এডভোকেট আবু সাইদের সাথে কথা হলে তিনি জানান,দীর্ঘ ৯২বছর আগে জমিদাতা হাজী মোহাম্মদ হোসেন স্কুল নির্মাণের জন্য জায়গা দান করেন। পরবর্তী ৪০ বছর পরে সে ও তার ভাইদের অংশীদার মূলে মালিকানা ও স্থানান্তরিত করনের দাবি মামলা করেন।যা পরপর ৫ বার স্কুল কতৃপক্ষের পক্ষে উচ্চ ও নিম্ন আদালত রায় দেয়।
এই মামলার কারনেই সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহিদ এমপির বরাদ্দ কার্যক্রম নির্মাণাধীন অবস্থায় স্থগিত হয়। পরে তাদের লুঠপাট ও নষ্ট হয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়।
তবে শিঘ্রই উন্নয়ন কাজ তরান্বিত করার আশ্বস্ত করেন বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপি।
এ দিকে স্থানীয় জনসাধারণ ও ছাত্রছাত্রীদের জোর দাবি দ্রুত সময়ে উন্নয়নের দিকে নজর দিতে কতৃপক্ষের নিকট।

