সময় সংবাদ ডেস্কঃ
করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে দেশব্যাপী চলছে কড়াকড়ি বিধি-নিষেধ। সীমিত যাত্রী নিয়ে চলছে লঞ্চ, ট্রেন ও আন্তঃজেলা গণপরিবহনও। অন্যান্য কার্যক্রমেও আছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এ অবস্থায়ও থেমে নেই মাদক ব্যবসা
বিভিন্ন পন্থায় মাদক আনা-নেয়া চলছে প্রতিনিয়ত। জরুরি পণ্য পরিবহনের আড়ালে কয়েক ধাপে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে তা পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতা অর্থাৎ মাদকসেবীদের হাতে। এমনকি ‘হোম ডেলিভারিও’ হচ্ছে মাদকের। অর্থাৎ করোনাকালে সবকিছু থমকে গেলেও রমরমা ব্যবসা চলছে মাদকের
গত কয়েক মাসে পুলিশ, র্যাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা, বিয়ার ও গাঁজাসহ মাদকদ্রব্যের বড় বড় চালান ধরে। ওষুধের পরিবহনের আড়ালে, পিকআপ ভ্যানে, মাছ ধরার নৌকা, এমনকি বিস্কিটের কার্টনের ভেতরেও লাখ লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারও করা হয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযানের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে তারা বদ্ধপরিক
এদিকে কাঠমিস্ত্রী থেকে ইয়াবার বদলে রাতারাতি কোটিপটি টেকনাফ পৌরসভা অলিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা মৃত আমির হোসেনের ছেলে আব্দুর রহিম। গত বছর মাদকবিরোধী অভিযানে এলাকা ছাড়া হয়ে শহরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। এখন গ্রামের বাড়ি তালাবদ্ধ। এরপরও বসে নেই। শহরে চলছে তার রমরমা ইয়াবা ব্যবসা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলমান মহামারিতে মাদকের চাহিদা বেড়েছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে অল্প সময়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে এসব মাদক। প্রতিনিয়তই রুট বদল করছে মাদক ব্যবসায়ীরা
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানা ধরনের নেশাদ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে। মাদকের নীল ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, যা একটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য চরম উদ্বেগজনক। সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার প্রকট রূপের পেছনে মাদক একটি বড় উপসর্গ হয়ে দেখা দিয়েছে। আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে কিশোর অপরাধীর সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খুন, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যারা ধরা পড়ছে তারা মূলত মাদক বহনকারী। তবে মূল ব্যবসায়ীরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সে কারণে মাদক আইন আরো কঠোর করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা
এদিকে স্থানীয়রা জানায়, জামিনে বেড়িয়ে এসে আত্মসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে আবারো সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ হাইস্কুল মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপির উপস্থিতিতে স্বঘোষিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মসমর্পণ করেন ১০২ জন। তারা জামিনে বেড়িয়ে এসে আবার জড়িয়ে
আত্মসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ীদের মিয়ানমারে পুরাতন সিন্ডিকেট থাকায় তারা আবারো পুরোদমে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৩ মে দুপুরে হ্নীলা ইউপি রঙ্গিখালী এলাকার আত্মসমর্পণকারী মাদক ব্যবসায়ী শাহ আজম ১০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। প্রায় দুই বছর পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে কারাগার থেকে বের হন আজম। জামিনের মাস তিনেক পার না হতেই ফের ইয়াবাসহ ধরা পড়েন তিনি। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবী করেছেন সচেতন মহ
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর টেকনাফ বিশেষ জোনের সহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল মোস্তফা মুকুল বলেন, জেলফেরত আত্মসর্মপণকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের নজরদারি রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর টেকনাফ বিশেষ জোনে আত্মসর্মপণ করা মাদক ব্যবসায়ী ও নতুন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

