অন্তঃসত্ত্বাকে রক্ত দেয়ার আগে ‘ডোনারের’ শরীরে মানসিক রোগের ইনজেকশন পুশ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, জুলাই ২৪, ২০২১

অন্তঃসত্ত্বাকে রক্ত দেয়ার আগে ‘ডোনারের’ শরীরে মানসিক রোগের ইনজেকশন পুশ





সময় সংবাদ ডেস্কঃ

বন্ধুর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রক্ত দিতে ক্লিনিকে যান অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী। রক্ত দেয়ার আগেই ভিটামিনের ইনজেকশন বলে তার শরীরে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর দুটি ইনজেকশন পুশ করেন প্যাথলজিস্ট। এমনই অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল পৌর শহরের বাসিন্দা। তিনি সরকারি সা’দত কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তার এক বন্ধুর বড় ভাইয়ের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। শুক্রবার সকালে সন্তান প্রসবের জন্য বন্ধুর স্ত্রীকে টাঙ্গাইল ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার রক্ত প্রয়োজন হয়। ক্লিনিকে ওই নারীর পাশেই এক মানসিক রোগী ভর্তি ছিলেন। দুপুরে রক্ত দেওয়ার জন্য ক্লিনিকে যান ওই শিক্ষার্থী। এ সময় মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর দুটি ইনজেকশন তার শরীরে পুশ করেন ক্লিনিকের প্যাথলজি বিভাগের প্যাথলজিস্ট মেহেদি হাসান।


শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা জানান, রক্ত দিতে হলে আগে কি ইনজেকশন দেওয়া লাগে, এমন প্রশ্ন করার পরও জোর করে দুটি ইনজেকশন পুশ করেন প্যাথলজিস্ট মেহেদি হাসান। পরে তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন- ভিটামিনের ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মেহেদি হাসান শটকে পড়েন। ইনজেকশন দুটি মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর বলে পরবর্তীতে জানা গেছে।


এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমার এক বন্ধুর বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে রক্ত দেওয়ার জন্য ক্লিনিকে যাই। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য ব্যবহৃত ইনজেকশন আমার শরীরে পুশ করেছে। এতে আমি চিন্তিত রয়েছি। আমার এখন ঘুম ঘুম ভাব আসছে। এ ঘটনায় আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।


বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। পরে ঘটনাস্থলে যান কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম। এরপর ভুল স্বীকার করে একটি লিখিত মুচলেকা দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়, ‘ইনজেকশন পুশ করার ফলে যদি তার কোনো ক্ষতি হয় তাহলে আমরা তার সকল দায়ভার বহন করব।’


ক্লিনিকের প্যাথলজি বিভাগের প্যাথলজিস্ট মেহেদি হাসান বলেন, অন্যজনকে দিতে গিয়ে ভুল করে ওই শিক্ষার্থীর শরীরে ইনজেকশন দুটি দেওয়া হয়েছে। রক্ত দিতে হলে আগে ইনজেকশন দেওয়া লাগে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তিনি।


টাঙ্গাইল ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদুর রহমান তালুকদার বলেন, বিষয়টি আমাদের ভুল হয়েছে। ভুল স্বীকার করে মুচলেকা দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।


টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Post Top Ad

Responsive Ads Here