নগরকান্দায় ডাকাতিসহ ৭ মামলার আসামি হতে চান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, জুলাই ২৪, ২০২১

নগরকান্দায় ডাকাতিসহ ৭ মামলার আসামি হতে চান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি

 
মেহেদী
 
স্থানীয় প্রতিনিধি :


ফরিদপুরের নগরকান্দায় ৭ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মেহেদী হাসান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হচ্ছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। অথচ এই মেহেদীর বিরুদ্ধেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের অফিস ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাংচুরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সংঘবদ্ধ ডাকাতির মামলায় আদালতের পরোয়ানা নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মেহেদী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা ছাত্রলীগের পদ বাগিয়ে নিতে স্থানীয় নেতাদের কাছে তদবির ও দৌড়ঝাপ করছেন মেহেদী । এ বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি মহলের সবুজ সংকেতও মিলেছে বলে মেহেদী জানিয়েছেন বিভিন্ন জনের কাছে। ইতোমধ্যে সেই মহল তার নাম সুপারিশ করে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ বরাবর লিখিত তালিকা পাঠিয়েছে।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় নগরকান্দা উপজেলায় স্বচ্ছ ও সক্রিয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই ঘটনায় উপজেলাব্যাপী আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।



উপজেলা ছাত্রলীগের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সম্প্রতি মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ। সেই সঙ্গে নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়।



অভিযোগ রয়েছে, মেহেদী হাসান স্থানীয় মাদক কারবারিদের সাথে সখ্যতা গড়ে এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এছাড়া প্রভাব খাটিয়ে তালমা এলাকায় স্থানীয় লোকদের মারধর, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটের অভিযোগ রয়েছে মেহেদির বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুর করে নাশকতার মামলার আসামি হয়ে পলাতক আছেন। 

 

এদিকে মেহেদীর বিরুদ্ধের মামলার বাদী মজনু পাটোয়ারি  বলেন, গরিবের বেলায় যত আইন। আমাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আমি কি এর বিচার পাব না? মেহেদীর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে ধরছে না। অথচ সে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবং আমার বাড়িতে এসে আবারো আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আসলে আগামী সংসদ নির্বাচনে লাবু চৌধুরীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন। তাই জামালকে ঠেকাতেই বিতর্কিত মেহেদীকে ছাত্রলীগের সভাপতি বানাতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি পক্ষ। কারণ তালমায় জামালের বিরোধীপক্ষ হিসেবে মেহেদী পরিচিত। এর আগেও বিভিন্ন মিটিং মিছিলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং তাকে নানাভাবে হয়রানি করেছে এই মেহেদী।



উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, লাবু চৌধুরী যে দুজনের নাম সুপারিশ করেছে তাদের কারো বাড়িই সদরের মধ্যে না। তাহলে এমন সভাপতি সম্পাদক দিয়ে দলের কি প্রয়োজনে আসবে?



এসব অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান বলেন, আমি এখন পর্যন্ত যা কিছু করেছি লাবু মামার জন্য করেছি। তালমায় অফিস ভাংচুরের যে মামলাটা হয়েছে সেটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লাবু মামার সমর্থিত প্রার্থীর জন্যই হয়েছিলো। আমার নামে আর কোন মামলা নেই।


এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য মেয়াদউর্ত্তীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরান বলেন, লাবু চৌধুরী মেহেদী ও রোমানকে যথাক্রমে সভাপতি, সম্পাদক সুপারিশ করে একটি তালিকা জেলা ছাত্রলীগের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিতর্কের বিষয়টি আমি লাবু ভাইকে জানিয়েছি। এবং বিতর্কিত কাউকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি না বানানোর অনুরোধও করেছি।



ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোন পলাতক ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা উচিত নয়। তারপরও প্রভাব দেখিয়ে সভাপতে বানানো হলে এটা হবে ছাত্রলীগের জন্য কলঙ্কজনক উদাহরণ।


এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজীদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, আমরা জেলা ছাত্রলীগ লাবু চৌধুরীর কাছে একটা তালিকা চেয়েছিলাম। সেই অনুযায়ী তিনি একটা তালিকাও পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে কঠোর যাচাই- বাছাইও হবে। আমরা সিভিগুলো ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দিয়েছি। রিপোর্টও এসেছে। আরেকটু দেখে কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) জিয়ারুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামি প্রকাশ্যে ঘুরছে অথচ পুলিশ ধরছে না-এমনটি হওয়ার কথা নয়। যদি এমনটি হয়ে থাকে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

Post Top Ad

Responsive Ads Here