আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, আগস্ট ৩১, ২০২১

আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র




আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ


দুই দশক পর অবশেষে আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সব সেনাকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেন কেনেথ এফ ম্যাকেঞ্জি। এ ঘোষণার পর গুলি ছুড়ে বিজয় উদযাপন করেছেন তালেবান যোদ্ধারা। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জেনারেল ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, সেনাদের ছাড়াও সব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ২৩ হাজার বেসামরিক নাগরিককে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন তারা।


যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণার পর তালেবান কর্মকর্তা আনাস হাক্কানি এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, আমরা আবার ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো কর্তৃক আফগানিস্তানের ২০ বছরের দখল আজ রাতে শেষ হয়েছে। আমি খুবই খুশি যে ২০ বছর জিহাদ, ত্যাগ ও কষ্টের পর আজ এ ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। এটি নিয়ে আমি গর্বিত।


২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা। একই সঙ্গে চারটি সমন্বিত হামলায় প্রাণ হারান প্রায় তিন হাজার মানুষ।







এ হামলার পরই আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে ওই বছরের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। উৎখাত করা হয় ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেয়া কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠী তালেবান সরকারকে।


আগস্টের মাঝামাঝি আফগানিস্তান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।


এতে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই হাজার ৩০০ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ হাজার ৬০০ সেনা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র যুক্তরাজ্য হারিয়েছে প্রায় ৪৫০ সেনা।


দীর্ঘস্থায়ী এ যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মূল্য চুকাতে হয়েছে আফগানিস্তানের জনগণকে। বিদেশি সেনা, তালেবানসহ অন্য গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ আফগান। এদের মধ্যে প্রায় ৭১ হাজারই বেসামরিক নাগরিক।


ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন (দুই হাজার বিলিয়ন) ডলার।


১৫ আগস্ট কাবুল দখলের পর আফগানিস্তানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ক্ষমতায় আসার পর দেশটি থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করে পশ্চিমাসহ বিভিন্ন দেশ।


কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্ধারকাজ করছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। মিত্র দেশগুলোর সময় বাড়ানোর চাপ থাকলেও ৩১ আগস্টের মধ্যে উদ্ধারকাজ শেষ করার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।


আগে থেকেই বিমানবন্দরটিতে হামলার আশঙ্কা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে জন্য আফগান ও নিজেদের নাগরিকদের সতর্কও করে। বৃহস্পতিবার সকালেও বিমানবন্দরে হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধও করে।


বিমানবন্দর ও আশপাশের কিছু এলাকা থেকে আফগানদের সরিয়ে দিয়ে খালিও করা হয় এ দিন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমানবন্দরের বাইরে অ্যাবে গেটের পাশে এক বোমা হামলায় ১৭০ জন নিহত হন। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সেনাও ছিলেন।


জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট-খোরাসান (আইএস-কে) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।


সোমবারও কাবুল বিমানবন্দরে রকেট হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইএস-কে। তবে এ হামলায় কেউ হতাহত হননি।


এর আগের দিন রোববারে আইএস-কে জঙ্গি সন্দেহে কাবুলের একটি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ বেসামরিক নাগরিক, যাদের ছয়জনই শিশু। স্বজনরা জানিয়েছেন, আফগানিস্তান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওই নিহতরা। তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও ছিল।


২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ধারাবাহিকতায় আফগান সরকারকে এড়িয়ে তালেবানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি বিষয়ক আলোচনা শুরু করে দেশটি।


২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তালেবানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে বিদেশি সেনাদের ওপর হামলা বন্ধের অঙ্গীকার করে তালেবান। এ বছরের মে মাস থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এই সুযোগে আফগানিস্তানের একের পর এক অঞ্চল দখল করতে শুরু করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি।


এপ্রিলের মাঝামাঝি আফগান যুদ্ধ অবসানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি জানান, ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সেনা সরিয়ে নেয়া হবে। তবে হঠাৎ করেই জুলাইয়ে সেনা প্রত্যাহারের তারিখ এগিয়ে এনে ৩১ আগস্ট ঘোষণা করেন বাইডেন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here