নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রিমান্ড শেষে আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনিকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হয়। সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পরে পরীমনিকে শুক্রবার বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে নেয়া হচ্ছে। প্রিজন ভ্যানে উঠার আগে পরীমনি বললেন, ‘নাইস গাড়ি’।
এর আগে দুই দফায় ছয়দিনের রিমান্ড শেষে দুপুর ১১টা ৪০ মিনিটে পরীমনিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।
এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা। অপরদিকে পরীমনির জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল পরীমনির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ সময় বিচারক বলেন, যেহেতু আসামির রিমান্ড আবেদন নেই, তাই আসামিকে আদালতে উপস্থিত করার প্রয়োজন নেই।
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আসামি শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে স্মৃতিমনি ওরফে পরীমনিকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি পলাতক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান জামিন চেয়ে আবেদনে বলেন, পরীমনি ‘ভারটিগো’ এবং ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এর রোগী। তিনি দীর্ঘসময় পুলিশ কাস্টডিতে (হেফাজতে) অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিপর্যস্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হেফাজতে থাকলেও মামলা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হয়নি। জরুরি চিকিৎসার স্বার্থে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া আবশ্যক।
উল্লেখ্য, ৪ আগস্ট বিকেলে পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাবের গোয়েন্দা দলের সদস্যরা। প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযান শেষে রাত ৮টার দিকে তাকে আটক করে র্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে র্যাব।

