মামুনুল হকের সহযোগী মুফতি শরাফতের ভাইয়ের অত্যাচারে যুবক আহত, থানায় মামলা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, আগস্ট ২৮, ২০২১

মামুনুল হকের সহযোগী মুফতি শরাফতের ভাইয়ের অত্যাচারে যুবক আহত, থানায় মামলা


 


 বোয়ালমারী (ফরিদপুর)ঃ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক তরুণকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করার ঘটনায় আদালতের আদেশে অবশেষে মামলা নিয়েছে থানা। অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। আসামীরা পলাতক রয়েছে। 

মামলার এজাহার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চতুল ইউনিয়নের হাসামদিয়া গ্রামের মো. কাশেম মোল্যার সঙ্গে একই মো. আবুল বাশার বাসু খন্দকার, মো. জাকির বেগ গংদের বিরোধ চলছিল। এই পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় মো. কাশেম মোল্যার ছেলে মো. রাব্বি মোল্যা (২২)কে বাসু খন্দকার, জাকির বেগসহ ৯/১০ জন জোর করে স্থানীয় 'গাঁও গেরামের পার্ক'-এর মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে রাব্বিকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ সময় রাব্বির চিৎকারে আশেপাশের লোকেরা এবং পার্শ্ববর্তী ময়েনদিয়া বাজারে থাকা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাব্বিকে উদ্ধার করেন। রাব্বিকে প্রথমে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় মো. কাশেম মোল্যা বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও থানা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ। পরে মো. কাশেম মোল্যা বাদি হয়ে ২২ আগস্ট ফরিদপুর বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৭ নং আমলী আদালতে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনসহ ছয়জনের নামোল্লেখ করে মামলা করেন। এরপর ফরিদপুর বিজ্ঞ আদালত বোয়ালমারী থানাকে মামলা গ্রহণের আদেশ দিলে থানা গত ২৪ আগস্ট ১৪৩/ ৩২৩/ ৩২৫/ ৩০৭/ ৫০৬(২)/ ১১৪/ ৩৪ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেন। মামলার এজাহার নামীয় আসামীরা হলেন গ্রামের চতুল ইউনিয়ন আ'লীগের সহ-সভাপতি মো. আবুল বাশার (বাসু খন্দকার), গাঁও গেরামের পার্কের মালিক মো. জাকির বেগ, ১ নং ওয়ার্ড আ'লীগের সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান বেগ, ১ নং ওয়ার্ড আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শামচু বেগ, মো. নাজিম বেগ ও লায়েক ফকির। 

এছাড়া স্থানীয় একটি মাদ্রাসার মার্কেট নির্মাণে ওই মামলার এক নম্বর আসামী বাসু খন্দকারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার চতুল ইউনিয়নের হাসামদিয়ায় অবস্থিত 'হাসামদিয়া আজিজিয়া ইমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসা'-র মার্কেট নির্মাণের দেড় লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ওই মাদ্রাসার মোহতামিম মো. সিরাজুল ইসলাম। মাদ্রাসার ৭ টি গাছ কেটে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে বাসু খন্দকারের বিরুদ্ধে। 

এ ব্যাপারে মো. আবুল বাশার (বাসু খন্দকার) বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য একটা পক্ষ এসব করছে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাদ্রাসার মার্কেট নির্মাণ বাবদ যে টাকা আমার কাছে ছিল তার হিসাব আমি সাবেক সাংসদ শাহ মো. আবু জাফর এবং মুফতি শরাফত হোসাইনের কাছে দিয়েছি। আর ওই যুবককে পিটিয়ে জখম করার ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই।

উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের ঘনিষ্ঠ এবং হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক

মুফতি শরাফত হোসাইনের আপন ভাই মো. আবুল বাশার (বাসু খন্দকার)। মুফতি শরাফত হোসাইনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় মামলা রয়েছে। গত ২১ এপ্রিল রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ। ২০০১ সালে বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া ও চতুল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও বাড়িঘর লুটপাটের ঘটনায় সেই সময়ে বাসু খন্দকারের সরাসরি যোগসাজশ ছিল বলে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তখন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

Post Top Ad

Responsive Ads Here