সময় সংবাদ ডেস্কঃ
অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী অনলাইনে প্রেমের ফাঁদ পেতে বাংলাদেশের পুরুষদের ফাঁসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার এ কাজে সহযোগিতার জন্য দেশে রয়েছে একটি চক্র। এ চক্রের দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ইমাম হোসেন বলেন, চক্রের দুই সদস্যকে রামপুরা থানার বনশ্রী ও শাহজাহানপুর থানা এলাকা থেকে গতকাল শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬) ও মো. সাইমুন ইসলাম (২৬)। তবে চক্রের মূল হোতা রোজী অস্ট্রেলিয়া থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, সম্প্রতি রোজীর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা হতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম নামে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। তার মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে রোজীর প্রতারণার জাল।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, রোজী প্রথমে অস্ট্রেলিয়া থেকে অনলাইনে দেশের পুরুষদের টার্গেট করে প্রেমে জালে ফাঁসান। এরপর দেশে এসে তাকে বা তার পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তার চক্রের সহযোগিতায় জাল ভিসা ও টিকিট তৈরি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়েন। তার এমনই জালে ফেঁসেছেন আইনজীবী খাইরুল ইসলাম। এ আইনজীবী ছাড়াও অনেকে নিঃস্ব হয়েছেন রোজীর মাধ্যমে।
ডিআইজি বলেন, রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশনের কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেন। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুরস্কারপ্রাপ্ত এমন ছবি খায়রুলকে পাঠান। তাকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি হয়ে নিজেসহ তার পরিবারে আরো ৮ সদস্যকে অস্ট্রেলিয়া নেয়ার জন্য রোজীকে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা প্রেরণ করেন। এরপর তাকে দেওয়া ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলে সেগুলো ভুয়া ও জাল ধরা পড়ে। এরপর খাইরুল ইসলাম খিলগাঁও থানায় মামলা করেন।
একইভাবে অস্ট্রেলিয়া নেয়ার কথা বলে জাল ভিসা-কাগজপত্র দিয়ে রোজী ও তার চক্রের সদস্যরা একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও জানান সিআইডির এ কর্মকর্তা।

