হারুন অর রশিদ,দোয়ারাবাজার থেকেঃ
প্রথমবারের মতো অসময়ে মাচায় ঝুলিয়ে থাই ইয়েলো গোল্ডেন ক্রাউন ও থাই ব্ল্যাক বক্স জাতের তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের মৃত হাজী কাচাই মিয়া তালুকদারের পুত্র মো. হাবিবুর রহমান হাবিব।
নতুন জাতের এ তরমুজ চাষ করে তিনি আর্থিকভাবে হয়েছেন স্বাবলম্বী। হাবিব বর্তমানে উপজেলার এক সফল তরমুজ চাষি। তিনি নিজের উদ্যোগেই চাষ করেছেন এ দুই জাতের তরমুজ। সরেজমিন দেখা যায়, মালচিং পদ্ধতিতে থাই ইয়েলো ডায়না ও থাই ব্ল্যাক বক্স জাতের তরমুজের আবাদ করেছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। ১ একর জমিতে ঝুলছে দুই থেকে তিন কেজি ওজনের কালো ও হলুদাভ তরমুজগুলো। তরমুজ চাষে তার খরচ হয় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বীজ রোপণের ৩০ দিনের মধ্যে গাছ মাচায় উঠে যায়। ৩৫ দিনের মধ্যে গাছে প্রচুর ফুল ও কুড়ি আসে। বর্তমানে মাচার ডগায় ডগায় ঝুলে আছে ছোট-বড় হাজার হাজার তরমুজ। গাছ লাগানোর ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই ফল বিক্রি করা যায়। অসময়ের এ তরমুজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বাজারে। প্রতি কেজি তরমুজের খুচরা মূল্য ১২০ টাকা ও পাইকারি ১০০ টাকা দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। ১ একর জমি থেকে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তার ৩ মাসে আয় হবে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়াও তিনি এক একর জমিতে দেশী রাজা টমেটো চাষ করেছেন। তরমুজকে কীটনাশকমুক্ত এবং সম্পূর্ণ অর্গানিক রাখতে তিনি নেটের ব্যাগে ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ফলে তরমুজের আকৃষ্টতাও বেড়েছে। নতুন এ পদ্ধতিতে তরমুজের ফলন ভালো দেখে উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে চাষিরা আসছেন দেখতে।
তরমুজ চাষি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি ২০১৮ সালে সিলেট এমসি কলেজে থেকে ডিগ্রি পাস করার পর বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে হতাশ ছিলাম। পরবর্তীতে গত বছর থেকে আমি কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হয়ে বর্তমানে আমি একজন সফল কৃষক। তবে এপর্যন্ত উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা বা সুপরামর্শ পাইনি।
কম খরচে কিছু একটা করে অধিক লাভবান হওয়া যায়, এমন চিন্তা সবসময় মাথায় কাজ করত। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ইউটিউব চ্যানেলে তরমুজ চাষের পদ্ধতি দেখে আগ্রহ বাড়ে। তাই নিজের উদ্যোগেই ১ একর জমিতে তরমুজ চাষ
করি। সেখানে আটটি বেড করে মাটির সঠিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে রাখি। এরপর চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর হাইব্রিড থাই ইয়েলো ও থাই ব্ল্যাক বক্স জাতের বীজ রোপণ করি। এই ফলটি খেতে খুব সুসাধু ও মিষ্টি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আমেনা ট্রাভেলসের সত্ত্বাধীকারী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, উন্নত জাতের তরমুজ চাষ করে আমাদের এলাকার শিক্ষিত যুবক হাবিবুর রহমান হাবিব, চাকুরির দিকে না তাকিয়ে নিজের ইচ্ছায় তরমুজ চাষ করে অল্প সময়ে সাবলম্বী হয়েছেন। তার মত চাকুরি ও বিদেশের প্রতি না তাকিয়ে কর্মমূখী হতে পারেন শিক্ষিত যুবকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মো. মহসিন বলেন, হাবিবুর রহমান হাবিবের এ জাতের তরমুজ চাষের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ জাতের তরমুজের ৬০ থেকে ৬৫ দিনেই ফলন শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, নতুন জাতের হলুদ রঙের এ তরমুজ বেশি চাষ হয় থাইল্যান্ড ও আফ্রিকায়। সম্প্রতি দেশের দিনাজপুর, নওগাঁ, রাজশাহীসহ বেশকিছু জেলায় স্বল্প পরিসরে চাষ শুরু হয়েছে। শিক্ষিত যুবকরা এগিয়ে আসলে বেকারত্ব দূর হবে।
