| অবৈধ্য ইটভাটার কারনে সঃ দপ্তরসহ প্রাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুকিতে |
ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহীঃ
রাজশাহীর দূর্গপুর উপজেলায় অবৈধ্য ইটভাটার কারনে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ঝুকিতে। সম্প্রতী করোন প্রার্দুভাবের কারনে বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পরে সন্তানদের নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তাদের অভিভাবক। পৌর এলাকার দেবীপুরে অবস্থিত ইটভাটাটি বাজার, স্কুল ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাছে দীর্ঘ দিন যাবত অবৈধ্য ইটভাটা চলমান আছে।
এই ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং বৈধ কোন অনুমোদন নেই। নাফিস ব্রিকস নামের ইটভাটার সকল কার্যক্রম চলছেস্কুল ঘেঁষে। স্থানীয়দের অভিযোগ ইটভাটার মালিক এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কানে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। ইটভাটায় কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও কাঠ পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছেন স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। দ্রুত ইটভাটাটি অন্যত্র স্থানান্তর করে এলাকাটি দূষিত পরিবেশের হাত থেকে রক্ষা করতে ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করছে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর মেডিকেল অফিসার ডা. অশোক কুমার বলেন, ইট ভাটার ধোঁয়ায় শিক্ষার্থী সহ সকল মানুষেরই শ্বাসকষ্ট সহ ফুসফুসে ক্যান্সার হতে পারে। এছাড়া ধূলাবালির কারনে হাঁপানি, চুলকানি সহ বিভিন্ন মারাত্মক চর্মরোগ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
নাফিস ব্রিকস নামের ওই ইটভাটার বৈধ কোন লাইসেন্স বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। কয়লা দিয়ে হাওয়ার মাধ্যমে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও পরিবেশ দূষণকারী চিমনিতে কাঠের খড়ি দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইট। প্রতিনিয়ত নির্গত হচ্ছে কার্বনডাইঅক্সাইড ও কালো ধোঁয়া। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার উত্তরে দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দেবীপুর উচ্চ বিদ্যালয়। তার পাশেই ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। এই তিন প্রতিষ্ঠান ঘেঁষেই চলছে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই ইটভাটার রমরমা ব্যবসা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান ও সারোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল ভবন ঘেঁষে নতুন ইট তৈরির কাজ চলছে। পাশেই মাটির স্তূপ। ক্লাসরুমের পাশ দিয়ে সব সময় বিভিন্ন যানবাহনে চলছে মাটি ও কাঁচা ইট পরিবহনে। ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত যানবাহনের অবাধ চলাচলে শিক্ষার্থী সহ সাধারন জনগন প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন। যানবান চলাচলে প্রকট শব্দ হওয়ার কারনে শিক্ষার্থীদের সাথে চিৎকার করে পাঠদান করাতে হয়। দেবীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার লায়লা আরজুমান জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়া শিক্ষার্থীদের চরমভাবে স্বাস্থ্যঝুকির মধ্যে ফেলেছে। ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
পরিবেশবিদ রওশন জাহান মিতু বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩ নীতিমালা অনুযায়ী পৌর এলাকার অভ্যান্তরে কৃষি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী দপ্তর, চিকিৎসা কেন্দ্র, ঘর-বাড়ী, ফলজ ও বনজ বাগানের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। পরিবেশ অধিদপ্তর বা তদসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই এলাকায় ইটভাটা স্থাপন বা পরিচালনা করার কোন লাইসেন্সও দিতে পারবেন না। রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলায় নাফিস ব্রিকস নামের কোন ইটভাটাকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ইট প্রস্তুত করা, ইট পোড়ানো ও সরবরাহ করা সম্পূর্ন আইন পরিপন্থি। দ্রুত এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
অবৈধ্য নাফিস ব্রিকস ভাটার মালিক তাবুল ইসলাম বাবু গনমৃধ্যমকে বলেন, ডিসি অফিস ও কাস্টমস অফিস ও সংশিলষ্ট দপ্তরকে ম্যানেজ করেই ইটভাটা ব্যবসা করছে। শুধু দূর্গাপুর নয় জেলার ৮টি উপজেলায় একই ভাবে চলছে ইটভাটার ব্যবসা। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তরা বলেন সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে অবৈধ্য ইটভাটায় বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মোঃসাইফুল্লাহ /সময় সংবাদ
