জেলা প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জামা তৈরিতে ত্রুটি হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মিলন মিয়া নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রোববার ভোরে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত মিলন উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ইটালুকান্দা গ্রামের আজিজল হকের ছেলে।
সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- ইটালুকান্দা গ্রামের মৃত রহিজ উদ্দিনের ছেলে আজিজুল হক একই গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে রিপন মিয়া ও মোহাম্মদ আলীর ছেলে রুবেল মিয়া। অপর পক্ষের একই ইউনিয়নের গাছবাড়ি গ্রামের জেলাল উদ্দিনের ছেলে রনজন আলী ও রনজন আলীর স্ত্রী মোছা. সোমা খাতুন। এদের মধ্যে আজিজুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ইটালুকান্দা গ্রামের শালু মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ গাছবাড়ি বাজারের মাইদুল ইসলাম দর্জির কাছে শার্ট তৈরি করতে দেন। সঠিক মাপে শার্ট তৈরি না করায় দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু উভয়ের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বিরাজ করলে সালিশ পণ্ড হয়ে যায়।
এর জেরে শনিবার বিকেলে গাছবাড়ি বাজারে গেলে ইটালুকান্দা গ্রামের মৃত হানিফ উদ্দিনের ছেলে আইনুল হককে গাছবাড়ি গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে শুভ মিয়া মারধর করেন। এতে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয়পক্ষের ছয়জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রোববার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন মিয়া মারা যান।
এ বিষয়ে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অলক কুমার বলেন, শনিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অবস্থায় ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার ভোরে তাদের মধ্যে মিলন মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আজিজুল হক নামে আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রৌমারী থানার ওসি মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মরদেহ সোমবার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
