চাঁদা না দেওয়ায় ইউপি সদস্যের হামলায় শিকার নারীসহ আহত ৭ | সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২

চাঁদা না দেওয়ায় ইউপি সদস্যের হামলায় শিকার নারীসহ আহত ৭ | সময় সংবাদ

চাঁদা না দেওয়ায় ইউপি সদস্যের হামলায় শিকার নারীসহ আহত ৭ | সময় সংবাদ
চাঁদা না দেওয়ায় ইউপি সদস্যের হামলায় শিকার নারীসহ আহত ৭ | সময় সংবাদ


 নিজস্ব প্রতিবেদক:

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২০নং চররমনী মোহন ইউনিয়নের নবনির্বাচিত মেম্বার কামরুল ইসলাম সরকারের সরকারি রাস্তা সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজের জন্য টাকা না দেওয়ায় নারীসহ ৭সাত জনকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। চররমনী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সদস্য (মেম্বার) কামরুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে কামরুলকে ভোট না দেওয়ায় ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে আহতদের দাবি।


মঙ্গলবার (৮আট ফেব্রুয়ারি) দু’দফা হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৭সাত জনকে আহত করা হয়। ইউনিয়নের করাতিরহাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কামরুল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক। আহতরা হলেন- করাতিরহাট এলাকার সর্দার বাড়ির হারুন সর্দার, কামাল সর্দার, কবির সর্দার, মনোয়ারা বেগম, মনোয়ারা, ফারুক সর্দার ও সবুজ মিয়া। এরমধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


আহত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কাদিরা গোজা-করাতিরহাট সড়কটির সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ চলমান রয়েছে। অদৃশ্য বলয়ে কামরুল রাস্তাটির কাজের তদারকির করছেন। একাজে ঠিকাদারের সঙ্গে তিনি অংশীদার বলেও বলাবলি হচ্ছে। রাস্তা সংস্কারের নামে তিনি এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা দাবি করেন। তাদের (আহতদের) কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তাদের সঙ্গে কামরুলের বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরে ক্ষিপ্ত হয়ে কামরুল, তার ভাই সুমন সরকার, কামাল সরকার ও হেলাল সরকারকে নিয়ে সর্দার বাড়িতে হামলা চালায়। পরে বিকেলেও ফের হামলা চালানো হয়।


রাস্তার কাজে লাগবে বলে কামরুল একই এলাকার কবির হোসেনের কাছে ৫০০০/পাঁচ  হাজার টাকা দাবি করেছে।


আহতরা জানায়, নির্বাচনে ভোট না দেওয়ায় কামরুল তাদের ওপর পূর্ব থেকেই ক্ষিপ্ত ছিল। এখন ঠুনকো অজুহাতে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।


আহতদের স্বজন জাহাঙ্গীর আলম সর্দার বলেন, রাস্তাটির একপাশে আমার বাড়ি, অন্যপাশে ক্ষেত। দক্ষিণ পাশে ভেঙে যাওয়া রাস্তা সংস্কার না করে আমার বাড়ির দিকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে আপত্তি জানালে সংষ্কারের নামে কামরুল আমার কাছ থেকে ৫০, হাজার টাকা দাবি করে। এনিয়ে আমার সাথে তার বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এর পরেই আমার বাড়িতে দু’ দফায় হামলা চালায় তিনি।


কামরুল সরকার বলেন, টাকা দাবি ও তাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগটি মিথ্যা। রাস্তাটি ৭সাত ফুটের ছিল। এখন ১০দশ ফুট প্রশস্ত হবে। এজন্য দু’পাশে রাস্তা প্রশস্তকরণ করতে গেলে জাহাঙ্গীররা ঠিকাদারকে বাধা দেয়। মেম্বার হিসেবে বিষয়টি বুঝাতে গেলে তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। ভোট দেওয়া, না দেওয়া নিয়ে তাদের সঙ্গে আমার কোন মতবিরোধ নেই।


চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল বলেন, আহতরা নির্বাচনে কামরুল সরকারকে ভোট দেয়নি। কামরুল হয়তো রাস্তা সংস্কার কাজের ঠিকাদারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এজন্য তাকে ভোট না দেওয়া পরিবারটির কাছে টাকা দাবি করেছে। টাকা না দেওয়ায় তাদের মারধর করা হয়েছে।


লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহসিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতদের থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



Post Top Ad

Responsive Ads Here