
"আশ্রয়ণে বদলেছে আবাদপুর | সময় সংবাদ"
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছীর একটি প্রত্যন্ত গ্রাম আবাদপুর। উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামের অনেক বড় একটা অংশ ছিল অনাবাদি ও পতিত। রয়েছে সাড়ে তিনশ বিঘার বেশি অংশ জুড়ে একটি বিল।
আশেপাশে জনবসতি না থাকায় এসব কাজে আসত না। কিন্তু মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্প পাল্টে দিয়েছে আবাদপুর এলাকার চিত্র। বদলে দিচ্ছে এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিবেশ। তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে শেখ হাসিনার আবাদপুরের আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘিরে জেগে উঠেছে প্রাণের স্পন্দন। পূর্বে এখানে মাত্র চারটি দোকান ছিল যা শুধু বিকেলে ২-৩ ঘণ্টার জন্য খোলা হতো। কিন্তু আশ্রয়ণ প্রকল্পের বদৌলতে দোকানগুলো এখন সারাদিন এবং রাতেও খোলা থাকে।
শুধু তাই নয়, প্রকল্পকে ঘিরে নতুন নতুন দোকান গড়ে উঠছে এবং পুরনো দোকানগুলোকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। পূর্বে এখানে বিদ্যুৎ ছিল না। প্রকল্পের কারণে প্রায় ১২শ’ মিটার দূর থেকে ১২টি বৈদ্যুতিক পোল বসিয়ে এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের স্বপ্ন দেখছেন এখানকার মানুষ।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে বদলেছে আবাদপুরের চিত্র। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ
আশ্রয়ণ প্রকল্পে বদলেছে আবাদপুরের চিত্র। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ
মহাদেবপুরের রাইগাঁ ইউপির লাউরাইল গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বাচ্চু। তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে নাপিতের কাজ করতেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প হওয়ায় তিনি হাটের পাশের পতিত জমিতে বাঁশ-কাঠ দিয়ে স্থায়ী বেড়ার ঘর নির্মাণ করছেন। স্থায়ীভাবে তিনি এখন এই ঘরে নাপিতের কাজ করবেন।
আবাদপুর গ্রামের শ্রী লিটন চন্দ্র মন্ডল জানান, প্রতিদিন বিকেলে সাইকেলে করে মুদি সামগ্রী নিয়ে মাটিতে বিছানা ফেলে দোকান পেতে বসেন। একটা স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা আরো প্রসারিত করবেন তিনি। কারণ এখন বেচা-কেনা বেড়েছে অনেক।
বদলগাছী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আবাদপুরে শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্প হওয়ায় অবহেলিত এ জায়গাটি অনেক মূল্যবান হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য নতুন করে রাস্তা নির্মিত হচ্ছে। ফলে জনসমাগম বাড়বে। এখানে যে হাটটি আছে সেটাকে আরো সম্প্রসারিত করা হবে। এরইমধ্যে প্রকল্পকে ঘিরে নতুন নতুন দোকানপাট নির্মিত হয়েছে। এখানে যে বিশাল বিল রয়েছে তা আমরা খননের ব্যবস্থা করবো যাতে করে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তিনি আরো বলেন, এলাকাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এই সৌন্দর্য যাতে আশেপাশের মানুষ উপভোগ করতে পারে সেজন্য এখানে একটা পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব করবো।
ইউএনও আলপনা ইয়াসমিন বলেন, আবাদপুরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করেই আমরা এখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে বিভিন্ন ধরণের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র
