
ঠিকাদারের অর্থে যুক্তরাষ্ট্র সফরে চট্টগ্রাম ওয়াসার ৩ কর্মকর্তা
মো. নাজমুল হোসেন ইমন, স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার তিন কর্মকর্তা। সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের ঠিকাদারের অর্থে বিদেশ সফর নিষিদ্ধ করে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পরিপত্র জারি করা হলেও তা অমান্য করে এই সফরের আয়োজন করায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম নগরীতে তিন হাজার স্মার্ট ওয়াটার মিটার স্থাপনের জন্য একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। প্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে। বর্তমানে প্রকল্পটির বিলিং কার্যক্রম চলছে।
প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও ডিজিটাল মিটার সরবরাহ, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত ‘কারিগরি ও সফটওয়্যার প্রশিক্ষণ’ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ওয়াসার তিন কর্মকর্তা। সফরের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকারীদের মধ্যে রয়েছেন—চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামার লুৎফি জাহান। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন প্রতিনিধিও থাকবেন, তবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আগামী সোমবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। সফরের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ দিন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগম জানান, সফরের প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন রয়েছে। তাঁর দাবি, এ সফরে সরকারের বা ওয়াসার কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না, সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তবে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন এমন কর্মকর্তাদের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সরাসরি ডিজিটাল মিটার স্থাপন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন না। তবুও তাঁকে সফরের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এর আগেও তিনি ২০২২ সালের জুলাই মাসে অন্য একটি প্রকল্পের যন্ত্রপাতি কেনার আগে শিল্পকারখানা পরিদর্শনের অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে ২০১৯ সালে ‘প্রশিক্ষণের’ নামে উগান্ডা সফরে যান ওয়াসার ২৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের আরও ১৪ কর্মকর্তা যোগ দেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিকাদারের অর্থায়নে বিদেশ সফর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার পরিপন্থী। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাত, ভবিষ্যৎ প্রকল্প অনুমোদনে প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হয়। সরকারি পরিপত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল এসব ঝুঁকি রোধ করা। কিন্তু চট্টগ্রাম ওয়াসার এই সফর সেই নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
