চট্টগ্রামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১,৮০০ টাকায় - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ০১, ২০২৬

চট্টগ্রামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১,৮০০ টাকায়

 

চট্টগ্রামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে  ১,৮০০ টাকায়
চট্টগ্রামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে  ১,৮০০ টাকায়


মো: নাজমুল হোসেন ইমন । স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ডিসেম্বর মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করলেও চট্টগ্রামের বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।


সাম্প্রতিক সরেজমিন পরিদর্শনে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ, বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর, দুই নম্বর গেট, পলিটেকনিক মোড় ও রৌফাবাদ পাহাড়িকা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন দোকানে দেখা গেছে—সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ দোকানেই ওজনপ্রতি ৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে।


বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, টোটালসহ বিভিন্ন নামি কোম্পানির ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১,৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১,৮০০ টাকায়। কিছু দোকানে নির্ধারিত দামে বিক্রি সম্ভব না হওয়ায় গ্যাস বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে।


পলিটেকনিক মোড়ের ‘মেসার্স মোহাম্মদিয়া ট্রেডিং’ থেকে গ্যাস কিনতে এসে বাড়তি দাম দিতে বাধ্য হন খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, “সরকার নির্ধারিত দাম ১,৪৫৯ টাকা হলেও আমাকে দিতে হয়েছে ১,৫০০ টাকা। বাড়তি টাকা নেওয়া হলেও কেউ নজরদারি করছে না। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে, এমনকি রসিদও দিচ্ছে না।”


দোকানটির মালিক মুহাম্মদ আলী আজম বলেন, “আমরাই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০–৪০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছি। কোম্পানি ও পরিবেশকরা দাম না কমালে খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।”


ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতি মাসে দাম ঘোষণা করলেও বাস্তব বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।


মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহ আলম বলেন, “বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ না থাকায় সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ সিলিন্ডারও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে—এতে সংসারের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।”


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্যাহ বলেন, “আমাদের তদারকি কার্যক্রম চলমান। কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”


এলপিজি বাজারে অস্থিরতার জন্য বিইআরসির ভূমিকাকেই দায়ী করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংস্থাটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “বিইআরসি দাম নির্ধারণ করেই দায় শেষ করে দেয়। মাঠপর্যায়ে তদারকি কে করবে—এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এই অব্যবস্থাপনার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।”



Post Top Ad

Responsive Ads Here