![]() |
| সড়কে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর বাবা আটক |
মো: নাজমুল হোসেন ইমন, স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া সেই দুই শিশুর বাবা মো. খোরশেদ আলম (৩৫)-কে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুই শিশুর বাবার সন্ধান পাওয়া গেছে এবং তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুই শিশু বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আনোয়ারা থানার এসআই মোমেন কান্তির নেতৃত্বে খোরশেদ আলমকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক খোরশেদ আলম পুলিশকে জানান, তার বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মহামনি এলাকায়। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি বাঁশখালীর মিয়ারবাজার লস্করপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
খোরশেদের দাবি, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর ছেড়ে চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি সংসারের মালামাল ও প্রায় ১৮ হাজার টাকা নিয়ে যান। এরপর দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খোঁজ পাননি তিনি। তার অভিযোগ, স্ত্রী প্রতিবন্ধী শিশুটিকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাতেন। শিশুদের মায়ের বাড়ি সাতকানিয়ার মৌলভীর দোকান এলাকায়।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, পুলিশের হেফাজতে থাকা শিশুর বাবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তার বাবা-মাকে ডেকে আনা হচ্ছে। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কল্যাণ বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে আনোয়ারা উপজেলার শোলকাটা এলাকা থেকে চার বছর বয়সী আয়েশা আক্তার ও ১৪ মাস বয়সী মোরশেদকে উদ্ধার করেন সিএনজি অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিন। কনকনে শীতের মধ্যে আয়েশার কোলে থাকা মোরশেদকে নিয়ে শিশুটি সড়কের পাশে বসে ছিল। পরে পুলিশ শিশুদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুই শিশুর একজন জন্মগত রোগে আক্রান্ত এবং অন্যজন চর্মরোগে ভুগছিল। এ কারণেই পরিবারের কেউ তাদের রাস্তায় ফেলে যেতে পারে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

