![]() |
| চরফ্যাশনে ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি করে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন |
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলা-৪ আসনের চরফ্যাশন পৌরসভায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মী হেনস্থার অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামী চরফ্যাশন উপজেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ শরীফ হোসেন।
তিনি বলেন, বুধবার ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মী মারিয়া কামালের করা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানতে পারেন, জামায়াতে ইসলামীর দুই কর্মী তাদের প্রচারণায় বাধা দিয়ে হেনস্থা করেছে—এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে জামায়াত ভিন্ন তথ্য পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অধ্যক্ষ শরীফ হোসেনের ভাষ্যমতে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চরফ্যাশন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামী আন্দোলনের ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী এ এম এম কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল, তার ছেলে তাহযিব, যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি ফয়সালসহ কয়েকজন গণসংযোগে বের হন। এ সময় তারা স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বশির উল্লাহকে লিফলেট দেন।
তিনি আরও বলেন, লিফলেট নেওয়ার সময় সোহেল নির্বাচনী জোট ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে পীর সাহেবকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলে বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে যুব আন্দোলনের নেতা ফয়সাল অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বশির উল্লাহর গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া মসজিদের ইমাম হাফেজ আলাউদ্দিন ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করতে গেলে যুব আন্দোলনের ফয়সাল তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। পরে হাতাহাতির একপর্যায়ে ফয়সাল আলাউদ্দিনকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় বলে দাবি জামায়াত নেতার।
পরে আহত হাফেজ আলাউদ্দিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমীর বলেন, “এই ঘটনায় কোনো নারী হেনস্থার ঘটনা ঘটেনি। অথচ ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জামায়াত অফিসে আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলেও নারী হেনস্থার কোনো ভিডিও প্রমাণ দেখাতে পারেননি তারা। এরপরও রাতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেজে জামায়াতকে দায়ী করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়।
মূল ঘটনার প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে একই ঘটনায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ইসলামী আন্দোলনের ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী এ এম এম কামাল উদ্দিন। তিনি তার দলের নারী কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

