কর্জমুক্তি, রিজিক বৃদ্ধি ও বৈষয়িক উন্নতি: সূরা আলে ইমরানের আয়াতের ফজিলত - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬

কর্জমুক্তি, রিজিক বৃদ্ধি ও বৈষয়িক উন্নতি: সূরা আলে ইমরানের আয়াতের ফজিলত

 

কর্জমুক্তি, রিজিক বৃদ্ধি ও বৈষয়িক উন্নতি: সূরা আলে ইমরানের আয়াতের ফজিলত
কর্জমুক্তি, রিজিক বৃদ্ধি ও বৈষয়িক উন্নতি: সূরা আলে ইমরানের আয়াতের ফজিলত


হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী:


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারিম, আম্মা বা’দ।

মানুষের জীবনে ঋণের বোঝা, রিজিকের সংকট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা বড় একটি পরীক্ষা। ইসলাম এসব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা, দোয়া, ইবাদত ও কোরআনের আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। আজকের আলোচনায় কর্জমুক্তি, রিজিক বৃদ্ধি ও বৈষয়িক উন্নতির বিষয়ে সূরা আলে ইমরানের কয়েকটি আয়াতের ফজিলত সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো। ওয়া মা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ।


সূরা আলে ইমরানের আয়াতের আমল:

প্রচলিত আমল অনুযায়ী, সূরা আলে ইমরানের ২৬ ও ২৭ নম্বর আয়াত (কিছু বর্ণনায় ২৩-২৭ নম্বর আয়াত উল্লেখ করা হয়) ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর সাতবার পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে ঋণমুক্তি, শত্রুর অনিষ্ট থেকে হেফাজত এবং কল্যাণ লাভের আশা করা যায়।


এ ছাড়া প্রতিদিন এশার নামাজের পর শোয়ার আগে বারবার এই আয়াত তিলাওয়াত করলে আল্লাহ তাআলা রিজিকে বরকত দান, উপার্জন বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য দূর করার তাওফিক দান করেন—এমনটি ইসলামি গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।


আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট:

ইসলামি বর্ণনায় এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আর্থিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে সে সময় ইহুদি ও খ্রিস্টানদের একটি অংশ বিদ্রূপ করত। তারা বলত, যদি তিনি আল্লাহর নবী হতেন, তবে হজরত দাউদ (আ.) ও হজরত সুলাইমান (আ.)-এর মতো বিপুল সম্পদের অধিকারী হতেন।


এ প্রেক্ষাপটে সূরা আলে ইমরানের এসব আয়াত নাজিল হয়। আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—রাজত্ব, সম্মান, সম্পদ ও ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই ইচ্ছায় প্রদান করা হয়। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন, যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন এবং সীমাহীন রিজিক দান করেন।


হাদিসে ঋণমুক্তির ঘটনা:

হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, এক সাহাবি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে মহানবী (সা.)-এর কাছে সাহায্য চান। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে এই আয়াতগুলো পাঠ করার নির্দেশ দেন। আল্লাহর রহমতে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ঋণমুক্ত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন।


মূল শিক্ষা:

এই আয়াতগুলোর মূল শিক্ষা হলো—ধন-সম্পদ, সম্মান, ক্ষমতা ও রিজিক সবই আল্লাহ তাআলার নিয়ন্ত্রণে। তাই একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা, নিয়মিত ইবাদত করা, হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা এবং কোরআনের আমল অব্যাহত রাখা। আল্লাহর রহমত লাভের জন্য আন্তরিক তাওবা, দোয়া ও সৎকর্মের বিকল্প নেই।


আয়াতের বাংলা উচ্চারণ:

কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলকি তুতিল মুলকা মান তাশাউ, ওয়া তানজিউল মুলকা মিম্মান তাশাউ, ওয়া তুইজ্জু মান তাশাউ, ওয়া তুজিল্লু মান তাশাউ। বিয়াদিকাল খাইর। ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির। তুলিজুল লাইলা ফিন্নাহারি ওয়া তুলিজুন্নাহারা ফিল্লাইলি, ওয়া তুখরিজুল হাইয়্যা মিনাল মাইয়্যিতি, ওয়া তুখরিজুল মাইয়্যিতা মিনাল হাইয়্যি, ওয়া তারজুকু মান তাশাউ বিগাইরি হিসাব।


কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত নিঃসন্দেহে ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। তবে রিজিক বৃদ্ধি, ঋণমুক্তি ও জীবনের উন্নতির জন্য কেবল আমলের ওপর নির্ভর না করে হালাল উপার্জন, সততা, পরিশ্রম, আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল এবং নিয়মিত দোয়া ও ইস্তিগফার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


লেখক: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী

বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট; প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট; সাবেক ইমাম ও খতিব, কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সিলেট।


Post Top Ad

Responsive Ads Here