আমতলীতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬

আমতলীতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আমতলীতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
আমতলীতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 


আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার আমতলীতে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে স্বামী ও তার স্বজনরা মরদেহ রেখে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুপ্রিয়া রানী (৩২) গাজীপুর বন্দরের বাসিন্দা বিমল বেপারীর মেয়ে। তার স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার একই উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের বাসিন্দা।


পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে সুপ্রিয়া রানীর সঙ্গে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে তাকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের। নিহতের স্বজনদের দাবি, গত পাঁচ বছর ধরে অজয় চন্দ্র তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিয়া প্রতিবাদ করলে প্রায়ই পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হতো।


অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে পরকীয়ার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সুপ্রিয়াকে মারধর করা হয়। মারধরের বিষয়টি তিনি মুঠোফোনে তার মা দেপালী রানীকে জানান। কিছুক্ষণ পর অজয় চন্দ্র শাশুড়িকে ফোন করে জানান, সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন।


পরে স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা সুপ্রিয়াকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর খবর জানার পর স্বামী ও তার স্বজনরা হাসপাতালেই মরদেহ রেখে পালিয়ে যান।


খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।


এ ঘটনায় নিহতের মা দেপালী রানী বাদী হয়ে স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অজয়ের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


নিহতের ১১ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান ও ১১ মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে।


নিহতের মেয়ে মিথিলা অভিযোগ করে বলেন, “বাবার পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় বাবা আমার মাকে মারধর করে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।”


নিহতের মা দেপালী রানী বলেন, “আমার জামাতা তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিল। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”


আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হাসান রাহাত জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়া রানীর মৃত্যু হয়েছিল।


আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”


উল্লেখ্য, পরকীয়া ও হত্যার অভিযোগগুলো বাদী পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হবে।



Post Top Ad

Responsive Ads Here