জাহাঙ্গীর আলম, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরের চরাঞ্চলে গরুর ঘরে বসে চলছে কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা। কাগজে কলমে কমিউনিটি ক্লিনিকের অফিস থাকলেও বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব নেই। গরুর ঘরে বসে রোগী দেখছেন এবং ঔষধ দিচ্ছে এমন চিত্র দেখা যায় ভূঞাপুর শুশুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরে যমুনা নদী বেষ্টিত অর্জুনা ইউনিয়নের শুশুয়া ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে ২০১০ সালের বন্যায় উপজেলার শুশুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন যমুনায় ভেঙে যায়। তার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সুবিধামত বিভিন্নজনের বাড়ীতে বসে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে শুশুয়া গ্রামে মমিনুল নামক এক ব্যাক্তির বসতঘরে ভাঙ্গা আলমারিটা রাখলেও ঘরে রোগী বসার কোন জায়গা নাই। বাধ্য হয়ে বেছে নিয়েছে গরুর খাবার ঘরটি। সেখানে বসেই এ ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এদিকে এ ক্লিনিকের ঘর নির্মাণের নামে প্রকল্প দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে লোকাল গর্ভন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-৩) এর উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ৪৭টি প্রকল্পে ১ কোটি ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৪৮৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এ প্রকল্প তালিকায় প্রথমেই রয়েছে শুশুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের ঘর নির্মাণের জন্য ৫ লাখ টাকা। কিন্তু কোন কাজই করা হয়নি সেখানে। ঘরতো দুরের কথা ওই ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিকের কোন ঠিকানাও নেই। ২০০৯ সালে যমুনায় এ ক্লিনিকের ভবনটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ীর উঠানে বলে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। স¤প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শুশুয়া মমিনুলের বাড়ীর গরুর খাবার ঘরে বসে ঔষধ দিতে। আশ পাশের কোন বাড়ীতে খালি ঘর না থাকায় বাধ্য হয়ে নোংড়া যায়গায় বসেই ঔষধ দিচ্ছেন।
এ দিকে এ কমিউনিটি ক্লিনিকের ঘর র্নির্মাণে জন্য ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ নিয়ে সৃষ্টি ধু¤্রজাল। গত ২৮ ডিসেম্বর ১৭ তারিখের উপজেলা পরিষদের সভায় রেজুলেশনে প্রকল্প তালিকা জেলা কার্যালয় সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু সম্পতি অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্প তালিকায় একই তারিখ একই সয়য়ে প্রতিস্থাপন দেখিয়ে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র বিতরণ দেখানো হয়। এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা সমালোচনার ঝড়।
ক্লিনিকে দায়িত্ব প্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোবাইটর কুলসুম বলেন, আমি ২০১১ সাল থেকে এই ক্লিনিকে কমর্রত আছি। বিভিন্ন সময়ে স্কুল, মাদ্রাসা, বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়িতে বসে অফিস করছি। এ ক্লিনিকের নিজস্ব কোন অফিস ঘর নাই। কখনো কোন সরকারি অনুদান আসছে কি না আমার জানা নাই।
এ প্রকল্পের আওতায় গাবসারা ও ভদ্রশিমূল উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘর নির্মাণ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোন কাজ করা হয় নাই।
গাবসারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: আজহারুল ইসলাম জানান, লোকমুখে শুনেছি যে আমাদের স্কুলে ঘর নির্মাণের জন্য ৫ লাক্ষ টাকা বরাদ্দ আছে। কিন্তু স্কুলে এক টাকারও কাজ করা হয় নাই। আমরা কোন চিঠিপত্রও পায় নাই।
ভদ্রশিমুল উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: বাবলু ভূইয়া জানান, বিদ্যালয়ের বারান্দা নির্মাণের জন্য এমপি ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন সেটির কাজ হয়েছে। এ ছাড়া কোন ঘর নির্মাণ করা হয় নাই। কোন বরাদ্দ আছে কি না জানা নাই।
একই প্রকল্পে ইউনিয়নের দুঃস্থ পরিবারের মাঝে নলকুপ বিতরণ, স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন, সেলাই মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রায় কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়। কিন্তু এ সব প্রকল্পের বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সবই সুভংকরে ফাঁকি।
অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লিয়াকত হোসেন রনি বলেন, শুধু এলজিএসপি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ হয় নাই, এক প্রকল্প বার বার দেখিয়ে টিআর, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা হরিলুট হচ্ছে। হতদরিদ্রের কর্মসৃজন প্রকল্পের লক্ষ লক্ষ টাকার চেক জাল স্বাক্ষর করে লুট হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের ভাবমুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্য হবে।
ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম এ্যাডভোকেট জানান, এলজিএসপি প্রকল্পের বিষয় আমি অবগত নই অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

