মোস্তাফিজুর রহমান,গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)-
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে হোসিয়ারী ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বানু (৩৫) কে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ঘন্টাব্যাপি উপজেলার কোচাশহর-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। নয়ারহাট হোসিয়ারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় হোসিয়ারী ব্যবসায়ী এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন। এছাড়া কোচাশহর বন্দরের সকল ব্যবসায়ী ও এলাকার সহ¯্রাধিক নারী- পুরুষ উক্ত মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, কোচাশহর হোসিয়ারী ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও কোচাশহর ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সরকার, নিহত আবদুর রহমান বানুর স্ত্রী শিউলি বেগম, কোচাশহর ইউপি আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক শাহেদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান মন্ডল, গোবিন্দগঞ্জ নাগরিক কমিটির আহবায়ক এমএ মতিন মোল্লা, জেএসডি সভাপতি আইয়ুব হোসেন, গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্র লীগের যুগ্ম আহবায়ক রাজু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ঘটনার ৫দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এসময় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। তাছাড়া থানা ঘেড়াও সহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও তারা জানান।
উল্লেখ্য, মহিমাগঞ্জ বন্দরের মোজাফ্ফর রহমানের ছেলে মশিউর রহমান একটি প্রাইভেট ব্যাংকে চাকুরী করেন। সেই সুবাদে বিভিন্ন লোকজনের নিকট চাকুরী দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেন।
কোচাশহর ইউপির মোকন্দপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে ফয়জুল ইসলাম মশিউর রহমানকে চাকরী পাইবার জন্য প্রায় ৫বছর আগে মশিউর রহমানকে ৬ লক্ষাধিক টাকা দেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও চাকরী না পাওয়ায় টাকার ফেরতের জন্য ফয়জুল চাপ সৃষ্টি করেন মশিউর রহমানকে। এনিয়ে বেশ কয়েকবার শালিশ-বৈঠকও করতে হয়েছে।
নিহতের পরিবারের লোকজন বলেন, টাকা গুলো উদ্ধারে ফয়জুলের মামা আবদুর রহমান বানুকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। সেই মোতাবেক শুক্রবার সন্ধ্যায় মশিউর রহমান ফোনে টাকা দেয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে ডেকে নেন আবদুর রহমান বানুকে। কিন্তু ১৪ জুলাই শনিবার সকালে স্থানীয়রা মশিউর রহমানের বাড়ীর বাহিরের অংশে তীরের সাথে আবদুর রহমান বানুর গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলানো অবস্থায় লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

