চরভদ্রাসন প্রতিনিধি-
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের হাজীডাঙ্গী গ্রামের মৃত বড়মিয়া শেখের স্ত্রী ইছারুন বেগম (৭০) নামক এক অসহায় বৃদ্ধা বিধবাকে গত শুক্রবার সন্ধায় কিলঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করার পর পার্শবর্তী পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দিতে গিয়ে জনতার তোপের মুখে ব্যার্থ হয়েছে বলে অভিযোগ।
জানা যায়, একই গ্রামের নাসির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে হোসেন মন্ডল (৪৫) ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধা ও তার এক ভাগ্নি রোকেয়া বেগম (১২) আহত অবস্থায় চরভদ্রাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত বৃদ্ধার পরিবারে তিনটি কন্যা সন্তান সবারই বিয়ে হওয়ার পর ৫ম শ্রেনীতে পড়ুুয়া এক ভাগ্নিকে কাছে রেখে সে বসবাস করত।
বসতভিটে ঘেষে প্রভাবশালী প্রতিবেশী বৃদ্ধার বসতভিটে ও ফসলী জমি জবর দখল করার হীন উদ্দেশ্য নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ। শনিবার চরভদ্রাসন থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই. মোঃ লিয়াকত হোসেন জানান, “ আহত বৃদ্ধার স্বজনরা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে এবং তা তদন্তধীন রয়েছে”। তবে প্রতিবেশী হোসেন মন্ডলকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, “ গৃহস্থালী গরু ছাগল চড়ানো নিয়ে প্রতিবেশী বৃদ্ধার সাথে মারমারির ঘটনা ঘটেছে”।
হাসপাতাল বেডে শুয়ে আহত বৃদ্ধা জানায়, বসতভিটে সংলগ্ন এক বিঘাত জমির সম্পূর্ণ ফসল প্রতিবেশী হোসেন মোল্যা তার গরু ছাগল দিয়ে বিনষ্ট করেছে। ঘটনার দিন সন্ধায় বৃদ্ধার জমিতে গরু ছাগল আগলা দিতে নিষেধ করার জ্বের ধরে প্রতিবেশী হোসেন মোল্যা ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ীর উপর উঠে এসে তাকে কিল ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে বুকের উপর পারাতে থাকে। এ সময় বৃদ্ধার ভাগ্নি ছুটে এসে খালার উপর নির্যাতন ফেরাতে গেলে কিল ঘুষির আঘাতে শিশু রোকেয়াকেও আহত করে। পরে অচেতন বৃদ্ধাকে পার্শ্ববতী পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার প্রতিবেশী হোসেন মোল্যা তুলে নিতে থাকলে শিশু রোকেয়ার সৌরচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে বৃদ্ধাকে রক্ষা করেন বলে অভিযোগ।

