মোঃ শাকির আহমেদ ,শ্রীমঙ্গল(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
বি-বাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বৈশ্বামুড়া এলাকায় গত ২৯ আগষ্ট বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে এনা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রন হাড়িয়ে খাদে পড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৩জন, আর আহত হন অন্তত আরো ২০ জন যাত্রী। এসময় এনা পরিবহনের বাসে থাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মা-মেয়ে নিহত হয়েছেন।আহত হয়েছেন পরিবারের আরো দুইজন।
নিহতরা হলেন শহরের মৌলভীবাজার রোড আসিফ ডেইরী ফার্মের মালিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আলফু মিয়ার স্ত্রী রুজিনা নুর (৫০) ও কন্যা শামিমা নুর নিলা (২০) নিহত হন। এসময় একই গাড়িতে থাকা মোঃ আলফু মিয়া (৬০) ও ছেলে মোঃ আসিফ (২৩) আহত হন। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে শ্রীমঙ্গল এসে পৌছেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় একজন বাসিন্দা। তিনি জানান, আলফু মিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এনা পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার উত্তরা থেকে শ্রীমঙ্গল আসছিলেন। আলফু মিয়া স্বপরিবারে চিকিৎসার জন্য গত ২দিন আগে ঢাকা গিয়েছিলেন।
তিনি আরো বলেন, মৃতদেহগুলো এম্বুলেন্সে করে ঘটনাস্থল থেকে শ্রীমঙ্গল নিয়ে আসা হয়েছে। তবে আলফু মিয়ার এক মেয়ে ভারতে থাকায় জানাজার সময় নির্ধারন করা হয়নি। মেয়েটি দেশে আসলে সময় নির্ধারন করা হবে।
এ ঘটনায় পরিবারসহ শ্রীমঙ্গলবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার রাত ৯টায় আলফু মিয়ার মৌলভীবাজার রোডস্থ বাসভবনে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্খিরা ভীড় করছেন বাড়িতে। এসময় অনেকেই আলফু মিয়াকে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্ত্রী-কন্যাকে হারিয়ে আলফু মিয়া ও ছেলে আসিফ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম নজরুল, থানার ওসি (অপারেশন) মোঃ সোহেল রানাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিবর্গ ও নানান শ্রেণী পেশার মানুষ শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছেন এবং সান্তনা দিচ্ছেন।

