মহুয়া জান্নাত মনি,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে হাজারো বৌদ্ধ পূর্ণার্থীর সমবেত প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে দুই দিনের কঠিন চীবর দান উৎসব শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইন ঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই উৎসব।
শুক্রবার দুপুরে গৌতম বুদ্ধ ও বনভান্তের প্রতিকৃতিতে চীবর দান ও দেশনার মাধ্যমে শেষ হয় এবারের দানোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সন্ধ্যায় আকাশ প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এ দানোৎসবে প্রায় লক্ষাধিক নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে।
সকাল ছয়টায় বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় দেব-মানবের তথা সব প্রাণীর হিতার্থে ধর্মদেশনা। ধর্মদেশনায় উপস্থিত ছিলেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির।
এসময় জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবিরসহ বিহারের ভিক্ষু সংঘ, চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, চাকমা রানী য়েন য়েন, উষাতন তালুকদার এমপি, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন।
চীবর তৈরির পর শুক্রবার দুপুর দুইটায় শোভাযাত্রা সহকারে কঠিন চীবর ও কল্পতরু মঞ্চে আনা হয়। পঞ্চশীল গ্রহণের পর দুপুর আড়াইটায় বনভান্তের মানব প্রতিকৃতির উদ্দেশ্যে কঠিন চীবর উৎসর্গ করা হয়। রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবিরের হাতে কঠিন চীবরটি তুলে দিয়ে ভিক্ষুসংঘকে দান করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বেইন কর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে বেইন ঘর উদ্বোধন করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। পরে চরকায় সুতা কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রানী য়েন য়েন। রাজবন বিহারের বিশাল এলাকা জুড়ে ৮০ টি চরকা ও ১৮২ টি বেইন স্থাপন করা হয়। প্রায় ৬ শতাধিক মহিলা এই চীবর তৈরীর কাজে অংশ নেয়। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চীবর সেলাই শেষে চীবর দান করা হয়।
