জাহিদ হাসান,সরিষাবাড়ী(জামালপুর)প্রতিনিধিঃ ইচ্ছা আর মনোবল নিয়েই এগুতে চায় সিয়াম। জন্মের পর থেকে দুটি হাত বিহীন জীবন সংগ্রামে নেমেছে তিনি।
মনে বিন্দু মাত্র নেয় কোন হতাশা। সকল বন্ধুদের চেয়ে কোথায় নেই পিছিয়ে। হতে চায় সরকারি বড় ধরনের কর্মকর্তা। নিজেকে আত্বনিয়োগ করতে চায় দেশ সেবায়। সোমবার সকালে বাংলা পরীক্ষা দিতে এসে কথা গুলো বলছিলো জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রাথমিক সমাপনি পরিক্ষা দিতে আসা প্রতিবন্ধী পরিক্ষার্থী সিয়াম। সে ঐ উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনা পাড়া গ্রামের দিন মজুর জিন্না মিয়ার ছেলে। তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট সিয়াম।সে স্থানীয় উদনা পাড়া ব্যাক শিশু নিকেতন স্কুলের শিক্ষার্থী। এ ব্যাপারে উদনা পাড়া ব্যাক শিশু নিকেতনের প্রধান শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা জানান, সিয়াম প্রথম শ্রেণী থেকেই এই স্কুলে পড়া লেখা শুরু করে। পরিবারের অর্থ নৈতিক সংকটের কারনে মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়া লেখা। প্রতি মাসে ২৫০ টাকা বেতন ও দিতে পারতো না।পরে পরিবারের সাথে কথা বলে বেতন ফ্রি করে দিয়ে আবার পড়ালেখা শুরু করা হয়। পড়ালেখার পাশাপাশি সে সকল ধরনের খেলাধুলায় পারদর্শী। সকল শিক্ষার্থীর চেয়ে তার মেধা ভালো। সরকারি কোন সহায়তা পেলে সে পড়া লেখা চালিয়ে যেতে পারবো। সিয়ামের মা জোসনা বেগম বলেন, লেখাপড়ার জন্য তাকে কখনো বলতে হয় না। নিজের ইচ্ছায় সব সময় পড়ালেখা করে। কিছু কিছু কাজ ব্যাতিত সকল কাজ নিজেই করতে পারে। সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে সকল খেলাধুলায় করতে পারে। অর্থের অভাবে ছেলেকে কখনো ভালো কিছুই খাওয়াতে বা পরাতে পারি নাই। আমার ছেলেকে সরকারি কোন সহায়তা না দিলে আমাদের পক্ষে সিয়ামের পড়ালেখা করানো সম্ভব হবে না। প্রতিবন্ধি শিশু সিয়ামের সাথে কথা বলে জানা যায় লেখাপড়া করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সরকারী কর্মকর্তা হতে চায়। সরকার তার লেখা পড়ার করার সুযোগ সুবিধা দিলে সে ভালো ভাবে পড়াশুনা করে তার মনের ও পরিবারের আশা পূরন করবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম(রিমেল) বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে সেটা আমার জানা ছিলো না। তবে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে তাকে। আমি এ ব্যাপারে পরিক্ষার সাথে যারা জড়িত তাদের বলে দিবো।

