কোটা বহালের দাবিতে রাবির প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, জানুয়ারি ২৭, ২০১৯

কোটা বহালের দাবিতে রাবির প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ

সোমেন মন্ডল,রাজশাহী প্রতিনিধিঃ আজ রবিবার দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের  সামনে প্রথম ও  দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকুরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালসহ ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ  ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম।

 কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
কর্মসূচি চলাকালে সড়কে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া বাকি সব যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় মোটর সাইকেল ও সাইকেল চালকদের নেমে হেঁটে পার হতে দেখা যায়। বিনোদপুর এলাকার  উমেদ আলী নামের একজন ভ্যানচালক তার ভ্যান নিয়ে সমাবেশের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে গেলে বিক্ষোভকারীরা ভ্যানচালকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ভ্যানটি উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করেন।
সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা ৩০ শতাংশ কোটা বহাল চাই, রাজাকারদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, আর নয় ৭৫, এবার হবে ৭১ বলে স্লোগান দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা তারিকুল হাসান বলেন, ‘আমার বাবার বুকে বুলেট বিদ্ধ হওয়ার বিনিময়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে শিবির ক্যাডাররা দেশে একটি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফুঁসলিয়ে তারা তাদের কু-উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র কোনদিন সফল হতে দেওয়া হবে না।’
বিক্ষোভ সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের  মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক অমর কুমার রায় বলেন, ‘বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য আমাদের কারো বাবা, কারো চাচা কিংবা দাদা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। আমরা তাদের বংশধর। অথচ বর্তমানে আমরাই উপেক্ষিত হচ্ছি।’
রাজশাহীর হামিদপুর-নওদাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ চৌধুরী সমাবেশে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করেছি, রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছি। কিন্তু আজ আমাদের সন্তান-সন্ততিদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের অধিকার রক্ষা করুন।’
কর্মসূচি থেকে ছয়টি দাবি জানানো হয়। আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের অধীবেশনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না আসলে বৃহৎ কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। তাদের দাবিগুলো হলো- রাজাকরসহ স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের বংশধরদের সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে চাকুরিচ্যুত ও নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অবমাননাকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবিধানিক সংস্কৃতি ও পারিবারিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধের চেতনা বিরোধী সকল প্রকার অপপ্রচার বন্ধ করা এবং সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মের বয়সসীমা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আনুপাতিকহারে বৃদ্ধি করা।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশত শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here