সাপের কামড়ের চিকিৎসায় ভরসা হয়ে উঠেছে বড়াইগ্রামের পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতাল - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৯

সাপের কামড়ের চিকিৎসায় ভরসা হয়ে উঠেছে বড়াইগ্রামের পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতাল

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:নাটোরের বড়াইগ্রামের পাশ্ববর্তী উপজেলা বাগাতিপাড়া। ওই উপজেলার চন্দ্রখৈড় গ্রামের মৃত অনিল মাঝি সরকারের স্ত্রী সুমতি রানী (৫০) এর মুখে যেন জীবন জয়ের হাসি।

 রবিবার বিকাল ৪টার দিকে তিনি বড়াইগ্রামের বনপাড়াস্থ পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতাল থেকে নিজ বাড়িতে ফিরবেন। তিনটি চার্জার চালিত ভ্যান নিয়ে পরিবারের সকলে এসেছেন তাকে নিতে। এ সময় তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছেন কয়েক ধরণের ফুলের মালা। কারণ এই হাসপাতালে যারা সুমতি রানীকে চিকিৎসা দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছেন, মূলতঃ তাদের জন্যই এই ফুল। ফুল হাতে হন্যে হয়ে হাসপাতালের মালিক ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম আরেফিন প্রিন্সকে খুঁজছেন সুমতি রানীর ছেলে সুবাস মাঝি সরকার (২৪) সহ তাদের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি থেকে রাস্তার মোড়ের একটি মুদিখানার দোকানে চিনি কিনতে যাওয়ার সময় সুমতির রানীর বাঁ পায়ে কামড় দেয় বিষাক্ত সাপ। মুহুর্তেই চিৎকার দিয়ে দৌড়ে বাড়ির ফিরতে গেলে রাস্তার উপরই বেঁহুশ হয়ে পড়েন তিনি। প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসলে সেখানে দেখতে পায় সাপের কামড়ের দাগ। ডাকা হয় ওঝা ও কবিরাজ। তাদের ৩ ঘন্টা চেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রতিবেশী জনৈক এক ব্যক্তির পরামর্শে আনা হয় পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ও সাপোর বিষ নিষ্ক্রিয় করতে ১৮টি এন্টিভেনন ইনজেকশনসহ আনুসাঙ্গিক চিকিৎসা দেয়ার পর ২২ ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরে পান সুমতি রানী। 
সুমতির রানীর ছেলে সুবাস মাঝি সরকার আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, আমরা মায়ের বেঁচে ফিরে আসার আশা একেবারেই ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার তাদেরকে এই হাসপাতালে আনার পথ দেখিয়েছেন। আর তাইতো মাকে ফিরে পেলাম। 
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার গোলাম আরেফিন প্রিন্স জানান, এর আগে এই হাসাপাতালে ১৮ জন সাপের কামড় দেয়া রোগী ভর্তি হয়েছে এবং শতভাগই বেঁচে গেছেন। সর্বশেষ গত মাসের ২২ তারিখে উপজেলার নগর কুশাইল গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে ফিরোজ ইসলাম (১৯) চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। শতভাগ সাফল্যের কারণেই সাপের কামড়ের চিকিৎসায় মানুষ এখন এই হাসপাতালকে একমাত্র আস্থা হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন।  
পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালের মালিক ও বর্তমান বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী  জানান, সাপের কামড়ে চিকিৎসার জন্য ডা. গোলাম আরেফিন প্রিন্সের নেতৃত্বে একটি দক্ষ টীম রয়েছে। ওই টীমের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় ও মহান আল্লাহ-তালার  রহমতে রোগীগুলো বেঁচে গিয়েছে। তিনি আল্লাহ’র প্রতি ভরসা রেখে ওই টীমের ধারাবাহিক সফলতা কামনা করেন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here